দুবাইয়ের গ্যালারিতে তখন শ্বাসরুদ্ধকর নীরবতা। স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কার ১১ ওভার শেষে ১৩০ রান, হাতে এখনও ৯ উইকেট। ভারতের ২০২ রানের পাহাড়ও যেন মুহূর্তেই বালির মতো ভেঙে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল-হয়তো এখানেই থামছে সূর্যকুমার যাদবদের অপরাজেয় যাত্রা।
কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, আবারও তা প্রমাণ করল ভারত। ধীরে ধীরে চাপে ফেলে দেওয়া, রান রুখে দেওয়া আর বোলারদের শেষ মুহূর্তের দৃঢ়তায় ম্যাচ গড়াল টাইয়ে। এরপর সুপার ওভারে মঞ্চে ফের ভারত। লঙ্কানদের হারিয়ে বুকভরা স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ল তারা।
ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার যাদবের কণ্ঠে শোনা গেল তৃপ্তি আর উত্তেজনা মিশ্রিত স্বর, ‘এটিই তো ফাইনালের মতো লেগেছিল! ছেলেদের বলেছিলাম-ম্যাচটিকে সেমি-ফাইনাল ভেবে খেলো। মাঠে সবাই প্রাণশক্তি দিয়ে খেলেছে, ফলও মিলেছে।’
তবে আনন্দের ভিড়ে কিছু অস্বস্তিও রয়ে গেল। অভিষেক শর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়ার চোট দলে এনে দিল নতুন দুশ্চিন্তা। তার সঙ্গে যুক্ত হলো বোলিংয়ের দুর্বলতা। শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা আর্শদীপ সিংহ আর হার্ষিত রানাদের ওপর একরকম ছেলেখেলাই করলেন। স্পিন আক্রমণও ছিল নিষ্প্রভ।
ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল তাই সতর্ক করলেন, ‘অপরাজিত হলেও নিখুঁত ক্রিকেট এখনও খেলতে পারিনি। বোলিংয়ে লেংথ, বৈচিত্র-সবকিছুর উন্নতি দরকার। বিশেষ করে মাঝের ওভারে আরও ইয়র্কার চাই।’
অপরাজিত ভারত এখন তাকিয়ে ফাইনালের দিকে, যেখানে প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। লঙ্কানদের বিপক্ষে এই রুদ্ধশ্বাস জয় একদিকে বাড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে মনে করিয়ে দিয়েছে ঘাটতির জায়গাগুলো। আর সূর্যকুমারের চোখে–মুখে একটাই প্রত্যাশা-ফাইনালের মঞ্চে দল যেন খেলতে পারে একই মানসিকতা আর লড়াকু স্পিরিট নিয়ে।










Discussion about this post