বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা, স্বপ্ন আর প্রত্যাশা। সেই মঞ্চেই আলো ছড়িয়ে প্রথমবারের মতো ম্যাচসেরা হলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার মারুফা আক্তার। কলম্বোয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসের প্রথম ওভারে টানা দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। বিশেষ করে সিদরা আমিনকে ইন-সুইংয়ে বোল্ড করার সেই বলটি ইতোমধ্যেই ক্রিকেটবিশ্বে সাড়া ফেলেছে।
সাবেক লঙ্কান তারকা লাসিথ মালিঙ্গা সামাজিক মাধ্যমে ডেলিভারিটিকে বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপের সেরা বল।’ ভারতের কিংবদন্তি মিতালি রাজও মন্তব্য করেছেন, “সুইং গুরুত্বপূর্ণ, তবে লাইন-লেংথ ছাড়া ফল আসে না। মারুফা দুটোই দারুণভাবে মেলাতে পেরেছে।”
বাংলাদেশ প্রথমে বোলিং করে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেয় মাত্র ১২৯ রানে। জবাবে ৭ উইকেটে সহজ জয় তুলে নেয় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে পাওয়া মারুফা সংবাদ সম্মেলনে জানালেন আবেগঘন গল্পও, ‘ম্যাচের আগে মাকে ভিডিও কল করি। মা সুরা পড়ে দোয়া করেন সব সময়। বাবাকে দিতে পারিনি, উনি বাটন ফোন ব্যবহার করেন বলে ভিডিও কল সম্ভব হয় না।’
নিজের সাফল্যের রহস্য জানাতে গিয়ে তরুণ পেসার বললেন, ‘উইকেট টু উইকেট বল করার চেষ্টা করেছি। জানতাম, আমার বলে সুইং আছে। সেটাকে কাজে লাগিয়েছি। সতীর্থ আর জ্যোতি আপুরা সবসময় ভরসা দিয়েছে।’
এদিন বাংলাদেশের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন লেগস্পিনার স্বর্ণা আক্তারও। ৩.৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট, সবক’টি ওভারই মেডেন।
পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা স্বীকার করেছেন শুরুতেই মারুফার বোলিংয়ে ভেঙে পড়েন তারা, ‘প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারানো আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। সামনের ম্যাচে আরও ভালো পরিকল্পনা করতে হবে।’
দুই মাস ধরে বিশ্বকাপের জন্য দিন-রাত চিন্তায় ছিলেন মারুফা। অবশেষে স্বপ্নের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করে উঠেছেন। আর সেই সাফল্যের গল্পে যোগ হয়েছে মায়ের দোয়া, বাবার সাধারণ বাটন ফোনের উষ্ণ আবেগ।










Discussion about this post