ক্রিকবিডি২৪.কম রিপোর্ট
জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক নির্বাচিত হলেও এখনও পরীক্ষায় নামতে হয়নি তামিম ইকবালের। কিন্তু তার আগেই অনেকেই তার উপর যেন ভরসা রাখতে পারছেন না। অবশ্য এ ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছেন না এ বাঁহাতি। শনিবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে এক কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি শুধু জানিয়েছেন, নেতৃত্বের ভাল-মন্দ বিচার করার আগে যেন যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়।
গত বিশ্বকাপের পর মাশরাফি বিন মর্তুজা চোটে পড়লে শ্রীলঙ্কা সফরে তিনটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তামিম। এরপর গত মার্চে মাশরাফি ওয়ানডের নেতৃত্ব ছাড়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয় তামিমকে। তবে ওই মাস থেকে করোনার কারণে সব ধরণের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যায় টাইগারদের। তাই এখনও লাল-সবুজ জার্সিতে অধিনায়কত্বের পথ চলা শুরু হয়নি তামিমের।
কদিন আগে প্রেসিডেন্ট’স কাপ ওয়ানডেতে টুর্নামেন্টে অবশ্য দেখা গেছেন অধিনায়ক তামিমকে। সেই টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠতে পারেনি তার দল। সামনে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে তিনি নেতৃত্ব দেবেন ফরচুন বরিশালকে। যথারীতি তামিমের অধিনায়কত্বের দিকে চোখ থাকবে অনেকের। এ ব্যাপারে তামিম বলেন, ‘অধিনায়কত্বের চাপ, আমি তো এখনো পর্যন্ত ওই রকম কোনো চাপের ম্যাচই খেলিনি! প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হতে হবে তো, অধিনায়কত্বের চাপ এটা আসলে আপনাদের (সাংবাদিকদের) বানানো। আমি এখনও (দায়িত্ব পাওয়ার পর) কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলিনি।’
তামিমের মতে, নেতৃত্ব নিয়ে কাঁটাছেড়া করার আগে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত, ‘আমি যেদিন অধিনায়কত্ব পেয়েছি, ওই দিনই বলেছি যে, আপনারা বিচার করবেন ৬ মাস বা ১ বছর পর। পৃথিবীর যত বড় অথবা ছোট নেতাই হোক, দুই ম্যাচ-তিন ম্যাচ পর আপনারা (সাংবাদিকরা) শুরু করে দেন ক্যাপ্টেন্সির চাপ… এটা শুধু আমার ব্যাপার নয়, যে কারও ক্ষেত্রেই।’
তামিম আরও বলেন, ‘একটা বাচ্চা হাঁটতে কিন্তু ৯ মাস সময় নেয়, একদিনে না হাঁটলে তো আপনি বলতে পারেন না যে সে হাঁটতে পারে না। সময় লাগবেই। অধিনায়কত্ব আমার খেলায় কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটা অন্তত ২০ ম্যাচ পর বিচার করবেন,… কিংবা ১০-১৫ ম্যাচ পর। দুই-তিন ম্যাচ পর সেটা করতে পারেন না।’
কখনও নেতৃত্ব নিয়ে খুব বেশি ভাবনা ছিল না তামিমের। এবারও সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন এ তারকা, ‘আমার কোনো সমস্যা হয় না ভাই, ওটা নিয়ে এত চিন্তাও করি না। নেতৃত্ব নিয়ে অনেকবারই বলেছি, এটা এমন নয় যে ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেছি। কখনোই স্বপ্ন দেখিনি দেশের অধিনায়ক হওয়ার। বরং সুযোগটা এসেছে আমার কাছে। চেষ্টা করব ভালোভাবে করতে। ভালো হবে বা খারাপ, সেটা সময়ই বলবে। অধিনায়ক আমি হই বা পরে যে হোক, কিংবা আগে যে ছিল… ভালো বা সফল অধিনায়ক হতে হলে অনেক সময় দিতে হবে। এক সিরিজ বা দুই সিরিজে আপনি যদি মনে করেন কাজ হচ্ছে না, এটা আসলে কারও জন্য ভালো নয়। শুধু নিজের দেখে বলছি না। আমার জন্য, দলের জন্য, দেশের জন্য, কারও জন্যই ভালো নয়। কিছু সময় দিতেই হবে।’
Discussion about this post