অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটের হারের মধ্য দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছে টাইগাররা।
সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা শেখ মেহেদী ম্যাচ শেষে সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের ব্যাটিং, নিজের সুযোগ পাওয়া এবং দল নির্বাচনের বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সিরিজে বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাবকে সামনে এনেছেন এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। মেহেদী বলেন, ‘দলের সমস্যা এটা বলব না। আসলে ব্যাটসম্যানরা ফর্মে থাকলে খেলার দৃশ্যটা অন্যরকম হতো। যেহেতু তিনটা ম্যাচের ভিতর ব্যাটসম্যানরা একটাতে ভালো শুরু দিয়েছে, বাকি দুইটাতে দেয়ই নাই। আমার মনে হয় এখানে আমরা একটু পিছিয়ে গেছি। ব্যাটসম্যানরা যদি ফর্মে থাকতো, সিরিজটা হয়তোবা ভালো হতো।’
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ২২ বলে ২৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতে চার ওভারে একটি উইকেটও নিয়েছিলেন মেহেদী। তবে এরপরের দুই ম্যাচে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আক্ষেপ তো প্রতিনিয়ত করে। দেখেন ক্রিকেটার হিসেবে আমি শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই খেলি। কিন্তু সেখানেও আমি নিয়মিত সুযোগ পাই না।
মেহেদী যোগ করেন, ‘দেখা যায় সবসময় দলগত কম্বিনেশন কিংবা ম্যাচ-আপের মারপ্যাঁচে আমাকে বাদ পড়তে হয়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিষয়টা আমার জন্য সত্যিই খুব হতাশাজনক। আমি যদি নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতাম, তাহলে হয়তো বর্তমানে যে ধরনের পারফর্ম করছি, এরচেয়ে আরও অনেক ভালো করার সুযোগ থাকত আমার।’
নিজের অনিয়মিত সুযোগ পাওয়া নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে শেখ মেহেদী বলেন, ‘আপনারা হয়তো বা জানেন, আর এটা সবাই জানে যে আমি নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাই না। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখুন, বাংলাদেশে একজন ব্যাটার যেভাবে টানা সুযোগ পায়, একজন বোলার হিসেবে কিন্তু কেউ সেভাবে সুযোগ পায় না।’
বাংলাদেশ দলের বোলারদের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিজের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ টেনে মেহেদী বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের বাংলাদেশের সেরা দুজন টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানের কথা ভাবেন, আপনারা কিন্তু কখনোই তাঁদের দল থেকে বাদ দেবেন না। তাহলে বাংলাদেশের সেরা দুজন বোলারের ক্ষেত্রে কেন এমনটা হবে না? যাদের মধ্যে একজন প্রায় আমি নিজেই।’
নিজের দাবির পক্ষে পরিসংখ্যানও সামনে এনেছেন এই অলরাউন্ডার, ‘আপনি যদি ইকোনমি রেট দেখেন, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবথেকে কম ইকোনমি কিন্তু আমার। অথচ এরপরেও আমি দলে নিয়মিত নই। ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে যে নিয়মটা খাটছে, বোলারদের বেলায় ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে। আমি আসলেই জানি না এমনটা কেন হচ্ছে।’









Discussion about this post