বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সংগঠনটি এ মন্তব্যকে অশোভন ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে কোয়াব জানায়, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর নজরে এসেছে। আমরা এতে স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য তারা মেনে নিতে পারছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
কোয়াবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার, দেশের হয়ে ১৬ বছর খেলা ক্রিকেটারকে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়। শুধু তামিমের মতো একজন বলেই নয়, দেশের যেকোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক। আমরা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’ তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য খেলোয়াড়দের সম্মান ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
বিসিবি সভাপতির কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠানোর কথাও নিশ্চিত করেছে কোয়াব। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে। বিসিবি সভাপতির কাছে এর মধ্যেই আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বিসিবি সভাপতি।’
এর আগে এম নাজমুল ইসলাম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তামিম ইকবালের একটি বক্তব্যের ফটোকার্ড শেয়ার করে লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’ পোস্টটি পরে সরিয়ে নেওয়া হলেও এর মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত এবং এর সঙ্গে বোর্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।










Discussion about this post