আর মাত্র ক’দিন পরই (৯ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ। সেই আসরের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আজ সন্ধ্যা ছয়টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এ লড়াই। ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর পরের দুটি ম্যাচ একই মাঠে।
গত তিন সপ্তাহ ধরে টাইগাররা ছিল প্রস্তুতির নানা ধাপে। ফিটনেস অনুশীলন, বিশেষ স্কিল ক্যাম্প থেকে শুরু করে পাওয়ার হিটিং কোচের দীক্ষা-সবশেষে সিলেটে হয়েছে মূল অনুশীলন। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটের জন্যই ঢাকার বদলে এখানে আয়োজন, যাতে আরব আমিরাতের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য সামনে তাকাতে চান একেবারেই ধাপে ধাপে। তার বক্তব্য, এশিয়া কাপ এখনো সামনে, তাই মনোযোগ নেদারল্যান্ডস সিরিজেই। তিনি চান দল যেন নিজের মান ধরে রেখে ক্রিকেট খেলে। তাঁর বিশ্বাস, সেটি করতে পারলে জয় আসবে।
অধিনায়ক লিটন দাসও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, প্রতিপক্ষ যত দুর্বলই হোক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকে ছোট করে দেখলে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই লক্ষ্য শুধু জয় নয়, বরং ভালো ক্রিকেট খেলে নিজেদের সঠিক ছন্দে নিয়ে আসা।
একাদশ নিয়েও আছে আলোচনার অবকাশ। অনুশীলনে পাওয়া চোট কাটিয়ে ফিরেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে শামীম হোসেন পুরোপুরি ফিট নন, তাই প্রথম ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রাখার সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে দলে ফিরতে পারেন নুরুল হাসান সোহান বা সাইফ হাসান।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস এসেছে অসম্পূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে। তাদের মূল শক্তি অলরাউন্ডার বাস ডি লেড কিংবা অভিজ্ঞ রুলফ ফন ডার মেরওয়া নেই এই সিরিজে। তবুও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস মনে করেন, সুযোগ থাকছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার।
রেকর্ড কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষেই। ২০১২ সালের পর টি-টোয়েন্টিতে আর নেদারল্যান্ডসের কাছে হারেনি টাইগাররা। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও জয় পেয়েছিল লাল-সবুজরা। যদিও ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে হারের দাগ এখনো তাজা।
সব মিলিয়ে সিরিজটি বাংলাদেশের কাছে কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, আসলে এটি এশিয়া কাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ পরীক্ষা। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে সেই প্রস্তুতির বড় ধাপ।
Discussion about this post