দুই ম্যাচ শেষে সিরিজ সমতায়। একবার বাংলাদেশ, একবার নিউজিল্যান্ড। তাই তিন ম্যাচের এই লড়াইয়ের শেষ দিনটি এখন আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে যে দল জিতবে, ট্রফি উঠবে তাদের হাতেই। ক্রিকেটের ভাষায় যাকে বলে ফাইনাল না হয়েও ফাইনালের আবহ।
আজকের ম্যাচে টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দল। একাদশে দুটি পরিবর্তন। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পেসার তাসকিন আহমেদ ও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তাদের জায়গাতে মুস্তাফিজুর রহমান ও বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব আরও একটু বেশি। কারণ, এটি শুধু একটি সিরিজ জয়ের সুযোগ নয়, ঘরের মাঠে টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে হারানোর পর এবার সামনে নিউজিল্যান্ড। ধারাবাহিকতার নতুন রেখা টানতে চাইবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মিরপুরে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। ২৬ রানের হারে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা যেমন ধরা পড়েছিল, তেমনি পরিকল্পনাতেও ছিল ঘাটতি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে বদলে যায় দৃশ্যপট। দলটি যেন রাতারাতি নিজেদের ছন্দ ফিরে পায়। নিয়ন্ত্রিত বোলিং, পরিণত ব্যাটিং আর আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষায় ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
সে জয়ের মুখ ছিলেন নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসার ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের গতিপথই বদলে দেন। নিউজিল্যান্ড ব্যাটাররা তার গতি সামলাতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের পরিচয় আরও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
তবে শেষ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্কোয়াডে তানজিম হাসান সাকিব থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, রানার কাজের চাপ কমাতে টিম ম্যানেজমেন্ট ভিন্ন পরিকল্পনা নিতে পারে। যদি তা হয়, তবে সবচেয়ে বড় ম্যাচে বাংলাদেশকে নতুন সমীকরণে নামতে হবে।
নিউজিল্যান্ডও এই মঞ্চে আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা তাদের আছে। এবারও তারা জানে, উপমহাদেশের কন্ডিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। দলের পেসার উইল ও’রুর্কের কথাতেও সেই প্রস্তুতির আভাস মিলেছে।
পরিসংখ্যান নিউজিল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে। ৪৮ ওয়ানডে দেখায় তারা জিতেছে ৩৫টি, বাংলাদেশ ১২টি। একটি ম্যাচে ফল হয়নি। কিন্তু পরিসংখ্যান মাঠে ব্যাট-বলের বদলে খেলতে নামে না।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়ং, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক), ডিন ফক্সক্রফট, মুহাম্মদ আব্বাস, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, বেন লিস্টার, উইল ও’রউরকে, জেডন লেনক্স।









Discussion about this post