বাংলাদেশ ‘এ’ দল দোহায় এশিয়া ক্রিকেট কাউন্সিল রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই দেখিয়ে দিল নিজস্ব শক্তির ঝলক। হংকংয়ের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য তারা উড়িয়ে দিল মাত্র ১১ ওভারে, ৮ উইকেটের দাপুটে জয়ে।
এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান, যিনি খেললেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির ইনিংস, মাত্র ৩৫ বলে তিন অঙ্ক ছোঁয়া এই ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং ছিল সত্যিই বিধ্বংসী।
ম্যাচের প্রথম পাঁচ ওভারেই সোহান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ইনিংসটি অসাধারণ কিছু হতে যাচ্ছে। ২৪ বল খেলে ৮৮ রানের ঝড় তুলেছিলেন তিনি, যা অবিশ্বাস্যভাবে ছিল সম্পূর্ণ বাউন্ডারি নির্ভর,১০ ছক্কা এবং ৭ চার। এমনকি তখন পর্যন্ত তিনি দৌড়ে একটি রানও নেননি।
এর আগে দুই বলে দুটি ছক্কা হলে ভেঙে যেত টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডও, যদিও শেষ পর্যন্ত সেই রেকর্ড আর ছুঁতে পারেননি। তারপরও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক উপহার দেন তিনি। আগের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন (৪২ বলে), আর দ্রুততম ফিফটির মালিক ছিলেন শুভাগত হোম (১৬ বলে)। দুটো রেকর্ডই ভেঙে ফেলেন সোহান-ফিফটি ১৪ বলে আর সেঞ্চুরি ৩৫ বলে।
তার ওপেনিং সঙ্গী জিসান আলম শুরুতে ছায়া হয়ে থাকলেও পরে কিছুটা আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। পাঁচ ওভার শেষে তার রান ছিল মাত্র ৩, কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে তিনটি চারে নিজেকে জানান দেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৪ বলে ২০ রান করে আউট হন। তিনে নেমে জাওয়াদ আবরার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, তবে তার বিদায়ের পরের অংশটুকু আর কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। সোহানকে সঙ্গ দিয়ে ম্যাচ শেষ করেন অধিনায়ক আকবর আলি। তার ইনিংসটিও ছিল ঝড়ো, মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৪১ রান, যার মধ্যে শেষ ওভারের পাঁচটি ছক্কা ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে হংকংয়ের ইনিংস দোলাচলে পড়েছিল শুরু থেকেই। প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর পর তারা ব্যাটিং লয়ে ফিরতে পারেনি। আনশি রাথ ও নিজাকাত খান ব্যর্থ হন। তবে তিন নম্বরে নামা বাবর হায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন ৪৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে। শেষের দিকে ইয়াসিম মুর্তাজা ২২ বলে ৪০ রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিতে চেষ্টা করেন। কিঞ্চিত শাহ শেষ ওভারে আবু হায়দারের বিরুদ্ধে তিনটি ছক্কা মারেন, সেই ওভার থেকেই আসে ২৬ রান। শেষ তিন ওভারে হংকং তোলে ৩৮ রান, যা তাদের মোট স্কোরকে ১৬৭–এ নিয়ে যায়।
কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যারাজ এতটাই প্রবল ছিল যে এই রান কোনো চ্যালেঞ্জই হয়ে ওঠেনি। প্রথম ওভার থেকেই সোহানের আক্রমণ হংকংয়ের বোলারদের ধসে দেয়। তিন ওভারেই তিনি ফিফটি, আর অল্প কিছু সময় পরই সেঞ্চুরি। পাওয়ার প্লেতে ওঠে ১০৭ রান, যা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বিস্ফোরক সূচনা।
এই দাপুটে জয়ে আত্মবিশ্বাসের জোর পেয়ে পরের ম্যাচে আফগানিস্তান ‘এ’-এর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একই গ্রুপে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ‘এ’। উল্লেখযোগ্য যে, পূর্বের এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপ এবার নতুন নাম-রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূর্ণ সদস্য দেশের অংশ নিচ্ছে ‘এ’ দল, আর সহযোগী দেশগুলো অংশ নিচ্ছে তাদের জাতীয় দল নিয়ে।
বাংলাদেশের দারুণ সূচনার কেন্দ্রবিন্দু সোহানের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে অনেকদিন মনে রাখা হবে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার দখলে, ৪৯ বলে। এবার টি-টোয়েন্টিতেও সেরা তিনি। দুই ফরম্যাটেই বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এখন হাবিবুর রহমান সোহান।










Discussion about this post