টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটা বেশ ঊর্ধ্বমুখী। ঘরের মাঠে সাফল্যের পর বিদেশের মাটিতেও এসেছে স্মরণীয় জয়। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে পাওয়া জয় টেস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে নতুন পরীক্ষায় নামছে টাইগাররা।
আগামীকাল শুক্রবার আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট। ম্যাচটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিজের আলাদা ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দাপটের সময়ে ক্রিকেটারদের টেস্টের প্রতি আগ্রহী রাখা কতটা কঠিন-বিদেশি এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত স্পষ্ট করেছেন, ছোট সংস্করণের বিস্তার থাকলেও টেস্টের আবেদন তার কাছে আলাদা। তিনি বলেন, ‘ছোট সংস্করণের ক্রিকেটের বিস্তার আমরা থামাতে পারব না। তবে আমরা সবাই টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি। ব্যক্তিগতভাবে আমি ছোট সংস্করণের চেয়ে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচই খেলতে চাই।’
শান্তর বিশ্বাস, টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি দলের অন্য ক্রিকেটারদেরও একই রকম আগ্রহ রয়েছে, ‘একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তো বটেই, যখন আমরা ক্রিকেটার হয়ে উঠছিলাম, তখনো আমরা সবাই টেস্ট ক্রিকেটই খেলতে চেয়েছি। বেশির ভাগ ক্রিকেটারকে জিজ্ঞেস করলে তারাও বলবে, তারা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। একজন খেলোয়াড়ের কাছে টেস্ট ক্রিকেট সব সময়ই বিশেষ কিছু।’
তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে অবশ্য ছোট সংস্করণের প্রতি বাড়তি আগ্রহ রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে সেটিকে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অনীহা হিসেবে দেখছেন না তিনি। শান্ত বলেছেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেট যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এখন তরুণেরা ছোট সংস্করণের ক্রিকেট নিয়েও ভাবে। তবে তাদের সঙ্গে কথা বললে বুঝতে পারি, তারা তিন সংস্করণেই খেলতে চায়। অবশ্যই তারা টি-টুয়েন্টি বেশি খেলতে চায়, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট তারা খেলতে চায়।’
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও শান্তর কথার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। এ বছর পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে এই ধারাবাহিক উন্নতিই এখন দলকে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে তাকানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
তবে নিজেদের সাম্প্রতিক সাফল্যে আত্মতুষ্ট হতে চান না শান্ত। টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটি ধরে রাখাই তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি, বিশেষ করে এই সংস্করণে। টেস্ট দল হিসেবে আমরা এটাই চেয়েছিলাম। দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে কীভাবে উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। আমরা নিজেদের খেলার উন্নতি করার চেষ্টা করছি এবং গত কয়েক বছরে ভালোও করেছি।’
উন্নতির জায়গা যে এখনো অনেক, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন শান্ত। ভিন্ন পরিবেশ ও প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একই মানের ক্রিকেট খেলতে পারাটাকেই তিনি দেখছেন পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ‘ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে বিভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেও আমাদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। আগেও বলেছি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি ঠিকই; কিন্তু এখনো অনেক জায়গায়ই উন্নতি করতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া জয়ও তাই এখন অতীতের অধ্যায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবির ম্যাচে নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ-সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। শান্তও বিষয়টি দেখছেন সেভাবেই। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের ভালো একটি সিরিজ কেটেছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সেই সিরিজ এখন অতীত। এখানে নতুন প্রতিপক্ষ, নতুন কন্ডিশন। আমাদের সেভাবেই পরিকল্পনা করতে হবে।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট শেষ হওয়ার পরই অবশ্য বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরও গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা, যা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। ফলে আবুধাবির ম্যাচটি চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাবের বাইরে হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ও ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।



