নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারের পর আবারও সতীর্থদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরব হলেন লিটন দাস। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টেলএন্ডার ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক। এর আগেও একই ধরনের সমালোচনায় দেখা গেছে তাকে, আর এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
মিরপুরে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হার ডেকে আনে। ইনিংস কমে ১৫ ওভারে নেমে এলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। শুরুতেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল, আর সেই চাপ আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ছোট জুটি ছাড়া ইনিংসে তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।
ম্যাচ শেষে লিটন বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদের প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টিকে থাকতে হলে স্পিনারদের ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে হবে। তার ভাষায়, ‘এজন্যই তো বললাম যে আমি ওইদিনই বলেছি যে রিশাদ, শেখ মেহেদী, নাসুম এরা তো স্পিনার হিসেবে খেলে। বিশ্বজুড়ে যাঁরা স্পিনার হিসেবে খেলে, সঙ্গে ব্যাটিং করে সব টিমেরই পারে। আর না হয় আপনাকে চায়নাম্যান হতে হবে যেখানে আশ্চর্যজনক কিছু থাকে। অনেক দলে ক্রিকেটার থাকে না। কিন্তু শুধু বোলার হিসেবেই খেলে। কিন্তু শেখ মেহেদী তো ব্যাটিং পারে। সেই পারফরম্যান্সটা আমাদের দরকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। নাসুম, রিশাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই জিনিস প্রাপ্য।’
যদিও ম্যাচে বৃষ্টির প্রভাব ছিল, তবুও সেটিকে অজুহাত করতে চাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, শুরুতেই তিন উইকেট হারানোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘দেখুন পরিস্থিতি দুই রকম ছিল। এটা কারও হাতে থাকে না। আবহাওয়ার ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা যখন প্রথমে খেলতে নেমেছি, তখন উইকেটের আচরণ ছিল একরকম। ৩ উইকেট হারানোর পর আমরা শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে একটা জুটি হচ্ছিল। তারপর আবার ব্রেকে চলে গেছি।’
শেষের দিকে রান তোলার ব্যর্থতা নিয়ে আক্ষেপ ছিল স্পষ্ট। শামীম হোসেন পাটোয়ারীর অপ্রয়োজনীয় শট খেলে আউট হওয়া এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শূন্য রানে ফেরাটা দলের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। শেখ মেহেদী কিছুটা চেষ্টা করলেও সেটি ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
দলের ভারসাম্য নিয়েও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন লিটন। সাত নম্বর পজিশনে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। লিটনের ভাষায়, ‘সাত নম্বরে যদি আমি কেবল একজন ব্যাটারকে খেলাই, তবে বোলিং কোটা পূর্ণ করা কঠিন হয়ে যাবে। বাংলাদেশ দলে এমন কেউ থাকলে যে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি চার ওভার বোলিংও করতে পারবে, তবে অবশ্যই জানাবেন।’
চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে থাকলেও শেষ ম্যাচে হেরে সিরিজ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় শেষ ম্যাচটিই ছিল নির্ধারক। সেখানে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড। ম্যাচসেরা হন বেভান জ্যাকবস, আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা হন তাওহীদ হৃদয়।









Discussion about this post