ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদের। সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ যখন এলো, তখন আর হাতছাড়া করেননি তিনি। প্রথমবারের মতো বিদেশের লিগে খেলার সুযোগ পেয়ে ইংলিশ কাউন্টির দল কেন্টের হয়ে মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই টাইগার পেসার।
কেন্টের হয়ে খেলা ম্যাচগুলোতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন খালেদ। তার পারফরম্যান্সের সময়েই সেকেন্ড ডিভিশন থেকে ডিভিশন ওয়ানে উন্নীত হয়েছে কেন্ট। ফলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের সাফল্যও তার কাউন্টি অভিযানকে করে তুলেছে বিশেষ।
ছোটবেলা থেকেই ইংলিশ ক্রিকেটে খেলার স্বপ্ন দেখতেন খালেদ। নিজের সেই স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলায় যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি, যখন বুঝতে শুরু করি ক্রিকেট, তখন একটা স্বপ্ন ছিল যে, কোনোদিন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ৪-ডে বা ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ খেলার স্বপ্ন ছিল। তো আমার কাছে ইংলিশ ক্রিকেটটা খুবই ওপরে ছিল। তো চেষ্টা করছি। সুযোগ পাইছি যখন তখন অনেক, মানে কি, মনে মনে অনেক খুশি ছিলাম যে ওখানে যাওয়ার পরে।’
দীর্ঘদিন ম্যাচের বাইরে থাকার পর কাউন্টিতে খেলার সুযোগটি খালেদের জন্য ছিল নিজেকে ফিরে পাওয়ারও একটি সুযোগ। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে শুরুতে কিছুটা মানিয়ে নিতে সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠেন তিনি।
কাউন্টি অভিজ্ঞতা নিয়ে খালেদ বলেন, ‘এক্সপেরিয়েন্স ওয়াজ আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো ছিল। যে আমি অনেকদিন ধরে ম্যাচের বাইরে ছিলাম। তখন একটা অপরচুনিটি আসছিল। আমি রাজি হই, তাড়াতাড়ি করে যাই। তো ওইখানে যাওয়ার পরে আলহামদুলিল্লাহ, প্রথম দিকে ওদের ঠান্ডার সাথে একটু কষ্ট হইছে এডজাস্ট হতে। বাট যখন আমি খেলা শুরু করছিলাম, তখন আলহামদুলিল্লাহ ভালো স্টার্ট হইছে।’
কেন্টে গিয়ে শুরুতেই অবশ্য মাঠে নামার সুযোগ পাননি খালেদ। প্রথম ম্যাচে তাকে একাদশের বাইরে রাখা হলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিয়মিত খেলার আশ্বাস দিয়েছিলেন দলের কোচ ও অধিনায়ক। খালেদ বলেন, ‘আমি যাওয়ার পরে আমি কিন্তু একটা ম্যাচ খেলি নাই। তখন আমাকে ক্যাপ্টেন প্লাস কোচরা আইসা বলছে যে, ‘তুমি আসছো, আসার পরে এখানে এডজাস্ট হওয়ার একটা ব্যাপার আছে। তো তুমি চেষ্টা করো এখানে এডজাস্ট হওয়ার। নেক্সট ম্যাচ থেকে তুমি কন্টিনিউ খেলবা।’ শুধু খেলা না, খেলার বাইরেও ড্রেসিংরুমে ওদের সাথে অনেক মজা করছি। ওরা অনেক ফ্রেন্ডলি ছিল।’
বাংলাদেশের গরম আবহাওয়া থেকে ইংল্যান্ডের ঠান্ডা কন্ডিশনে গিয়ে মানিয়ে নেওয়াটাও ছিল খালেদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সেই ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেন তিনি। মাঠের পারফরম্যান্সেও যার প্রতিফলন দেখা গেছে।



