টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময়েই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্টভাবেই টানাপোড়েনের দিকে গড়িয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল মাঠের ক্রিকেটেই নয়, প্রভাব ফেলেছে গণমাধ্যম কাভারেজেও। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় এবং স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে-যা বিশ্বকাপ শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতির বিতর্ক থামার আগেই নতুন করে আলোচনায় আসে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের বিষয়টি। বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করা কোনো বাংলাদেশি সাংবাদিককেই প্রাথমিকভাবে অনুমতি না দেওয়ায় দেশের গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সফরকে অনিরাপদ হিসেবে উপস্থাপন করায় ভিসা ও অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, সরকারের এমন অবস্থান বারবার উঠে আসায় আইসিসি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক বিশ্বকাপ কাভারের অনুমতি পাননি।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আইসিসি জানায়, বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ায় পুরো অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হচ্ছে। আইসিসির একটি সূত্রের বরাতে পিটিআই জানায়, আবেদনসংখ্যা ও সূচির পরিবর্তনের কারণে তালিকা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে এবং দেশভিত্তিক কোটার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, কোনো দেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও সাংবাদিকদের কাভার করার অধিকার থাকে-এটাই আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের চর্চা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি, তবুও দেশের সাংবাদিকরা সেই টুর্নামেন্ট কাভার করেছিলেন। একইভাবে ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল কখনো খেলেনি, কিন্তু গণমাধ্যমের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত।
তার মতে, পূর্ণ সদস্য দেশ এবং বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিকেট দর্শকভিত্তির দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এই সুযোগ না দেওয়া হতাশাজনক।
আমজাদ হোসেন আরও বলেন, বিশ্বকাপে না খেলা আর অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল-এই দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা উচিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুরো টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়নি; বরং নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে খেলতে আপত্তি জানিয়েছিল এবং বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল, যা আইসিসি গ্রহণ করেনি।
আইসিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তবুও বিসিবি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে না রাখার ঘটনার পর বিসিবির অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে তারা অনড় থাকে।








Discussion about this post