একই প্রতিপক্ষ, একই ফরম্যাট, অথচ মঞ্চ আলাদা। ১১ দিনের ব্যবধানে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এশিয়া কাপের পর এবার এশিয়ান গেমসের শেষ চারে মুখোমুখি দুই প্রতিবেশী। নিগার সুলতানা জ্যোতিদের সামনে তাই শুধু আরেকটি সেমিফাইনাল নয়, ১০ সেপ্টেম্বরের সেই হারের জবাব দেওয়ারও সুযোগ।
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ১৪৯ রান তুলেছিল ভারত। রান তাড়ায় বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছিল ১০৯ রানে। সেই ম্যাচের ব্যবধান এবারও নিশ্চয়ই মনে আছে জ্যোতি, মারুফা আক্তারদের। তবে নতুন টুর্নামেন্টে পুরোনো প্রতিপক্ষকে ঘিরে গল্পটাও নতুন করে লেখার সুযোগ এসেছে তাদের সামনে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ও ভারত-দুই দলই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছিল। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি অবশ্য মাঠেই গড়ায়নি। চীনের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সেমিফাইনালের টিকিট পায় বাংলাদেশ। ফলে অন্য তিন সেমিফাইনালিস্ট যখন অন্তত একটি ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, বাংলাদেশ তখন অপেক্ষাতেই ছিল।
অন্যদিকে ভারতের জন্য অপেক্ষাটা ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। জাপানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আগে ব্যাট করে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট করে ভারত। সেই লক্ষ্য মাত্র পাঁচ ওভারে পেরিয়ে যায় তারা। ভারতীয় ইনিংসে ঝড় তোলেন শেফালি ভার্মা। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অপর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে ১৬০ রান তোলার পর মালয়েশিয়াকে ২০ ওভারে ৭৪ রানে আটকে দেয় তারা। অন্যদিকে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে এসেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে ম্যাচ অনভিজ্ঞতা। এশিয়ান গেমসের এই পর্বে অন্য তিন দল মাঠে নামলেও জ্যোতিরা এখনো খেলেনি। তার ওপর জাপানের আইচি প্রিফেকচারের এই ভেন্যুর উইকেট ও কন্ডিশনও বাংলাদেশের কাছে অচেনা। প্রথম ম্যাচেই সেই অপরিচিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তাই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
তবে প্রতিপক্ষ পরিচিত। মাত্র ১১ দিন আগেই ভারতের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগানোর সুযোগও আছে। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে যেখানে থেমেছিল পথ, এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে সেখান থেকেই নতুন গল্প শুরু করতে চাইবে বাংলাদেশ।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় মাঠে গড়াবে ভারত-বাংলাদেশ সেমিফাইনাল। ম্যাচের ফল যাই হোক, পদকের লড়াই শেষ হবে না সেখানেই। জয়ী দল যাবে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে, আর পরাজিত দলকে খেলতে হবে আরেকটি ম্যাচ-ব্রোঞ্জ পদকের জন্য।



