একজন ট্রফি জেতান ব্যাট হাতে, আরেকজন জয়ের গল্পের ভিত্তিটা গড়ে দেন বল হাতে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে কলম্বো ক্যাপসের রোমাঞ্চকর জয়ের ম্যাচেও ঠিক এমনই দুটি ছবি দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে জানিথ লিয়ানাগের হাতে। তবে নতুন বলে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেওয়া, ডেথ ওভারে আবারও আঘাত হানা এবং একটি রানআউটে সরাসরি ভূমিকা রেখে জয়ের ভিতটা গড়ে দেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ।
কলম্বোর সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কলম্বো ক্যাপস। শুরুতে ক্যান্ডি রয়্যালস আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দিলেও তৃতীয় ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাসান। প্রথমে মাত্র ১ রান করা সেদিকুল্লাহ আতালকে ফেরানোর পর একই ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ডেল ফিলিপসকে। ২৮ রানে উইকেটশূন্য থাকা ক্যান্ডি মুহূর্তেই ৩১ রানে হারিয়ে ফেলে তিনটি উইকেট।
চাপের মধ্যে লাহিরু উদারা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। উদারা ৩৬ বলে ৫৩ এবং ম্যাথুস ৪১ বলে ৪৫ রান করেন। শেষদিকে মঈন আলি মাত্র ১৭ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলায় বড় সংগ্রহের আশা জাগে ক্যান্ডির। তবে শেষ ওভারে আবারও কার্যকর হন হাসান। তিনি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে বোল্ড করার পাশাপাশি দুশান হেমান্থার রানআউটেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেটের সঙ্গে একটি রানআউটে অবদান রেখে বাংলাদেশের এই পেসার নিজের কাজটা দারুণভাবেই শেষ করেন। কলম্বোর হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন বিনুরা ফার্নান্দো, আর জেমস নিশাম শিকার করেন দুটি উইকেট। নির্ধারিত ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তোলে ক্যান্ডি।
১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে কলম্বো। ৩ রানেই প্রথম উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর দ্রুত ফেরেন সাদিরা সামারাবিক্রমাও। কামিন্দু মেন্ডিস ও বেন ম্যাকডারমট কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দুজনকেই ফেরান ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ১০ ওভারে ৬৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ক্যান্ডির দিকে চলে যায়।
সেখান থেকেই পাল্টা লড়াই শুরু করেন জানিথ লিয়ানাগে ও জেমস নিশাম। পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১০০ রানের জুটিতে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেন তারা। লিয়ানাগে ৩২ বলে ৬ চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৫৩ রান করেন। নিশামও ৩৬ বলে ৪৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে ২ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন।
ক্যান্ডির হয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা দুটি উইকেট নিলেও অতিরিক্ত ২৭ রান, যার মধ্যে ছিল ১২টি ওয়াইড ও দুটি নো বল, শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গারুকা সংকেথের খরুচে বোলিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচসেরার স্বীকৃতি লিয়ানাগে পেলেও পুরো ম্যাচের চিত্রে হাসান মাহমুদের প্রভাব ছিল সবচেয়ে স্পষ্ট। নতুন বলে টানা দুই উইকেট, ডেথ ওভারে আরেকটি সাফল্য, রানআউটে অবদান এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং-সব মিলিয়ে কলম্বো ক্যাপসের এই রোমাঞ্চকর জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার!










Discussion about this post