আইএলটি২০-এর নতুন মৌসুমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের চিত্রটা বদলে যাচ্ছে। গত আসরে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দেখা গেলেও পঞ্চম আসরে এখন পর্যন্ত দল ধরে রাখার তালিকায় জায়গা হয়েছে কেবল মুস্তাফিজুর রহমানের। দুবাই ক্যাপিটালস বাঁহাতি এই পেসারের ওপর আস্থা রাখলেও সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদকে ছেড়ে দিয়েছে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি।
আগামী ২২ নভেম্বর মাঠে গড়াবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগটির পঞ্চম আসর। ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এবারের প্রতিযোগিতায় ছয়টি দল খেলবে ৩৪ ম্যাচ। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর তিন ভেন্যুতে হবে পুরো টুর্নামেন্ট।
বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তির খবরটি এসেছে মুস্তাফিজকে ঘিরে। গত আসরে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা এই পেসারকে নতুন মৌসুমের জন্য ধরে রেখেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সঙ্গে রাখা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার রোভম্যান পাওয়েলকেও। আর স্কোয়াড শক্তিশালী করতে নতুন করে যোগ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস ও আফগানিস্তানের তরুণ স্পিনার নূর আহমদকে।
মুস্তাফিজকে ধরে রাখার সিদ্ধান্তটি শুধু একজন বিদেশি ক্রিকেটারকে স্কোয়াডে রাখার বিষয় নয়, বরং দুবাই ক্যাপিটালসের বোলিং পরিকল্পনায় তার গুরুত্বেরও ইঙ্গিত। কাটার, স্লোয়ার ও ডেথ ওভারে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতার কারণে টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর মুস্তাফিজ। নতুন মৌসুমে ক্যাপিটালসের বোলিং আক্রমণেও তার ওপর বড় দায়িত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে সাকিবকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়। গত মৌসুমে এমআই এমিরেটসের হয়ে আট ম্যাচ খেললেও ব্যাটিং-বোলিং-কোনোটিতেই নিজের চেনা প্রভাব রাখতে পারেননি বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। পাঁচ ইনিংসে ব্যাট করে তার সংগ্রহ ছিল ১১৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১২২.৩৪। বল হাতে আট ম্যাচে পেয়েছিলেন মাত্র তিন উইকেট। নতুন মৌসুমের জন্য তাই সাকিবকে ধরে রাখার পথে হাঁটেনি এমআই এমিরেটস।
তাসকিন আহমেদের ক্ষেত্রে গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। প্রথমবার আইএলটি২০ খেলেই শারজাহ ওয়ারিয়র্সের হয়ে ছয় ম্যাচে নয় উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তার বোলিং গড় ছিল ১৫.৪৪, যা যথেষ্ট কার্যকর পারফরম্যান্সেরই ইঙ্গিত দেয়। তারপরও সেই পারফরম্যান্স তাসকিনকে শারজাহর নতুন মৌসুমের ধরে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকায় জায়গা করে দিতে পারেনি।
ফলে গত আসরে একই লিগে তিন বাংলাদেশির উপস্থিতি থাকলেও এবার আপাতত সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে একে। আর সেই একজন হলেন মুস্তাফিজ-যিনি নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দুবাই ক্যাপিটালসের পরিকল্পনায় জায়গা ধরে রেখেছেন।
দুবাইয়ের নতুন স্কোয়াডে মুস্তাফিজের সঙ্গে থাকছেন পাওয়েল, স্টয়নিস ও নূর আহমদ। স্টয়নিসের প্রত্যাবর্তনও দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য সংযোজন। অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার সর্বশেষ ২০২৩ সালে আইএলটি২০ খেলেছিলেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের সামর্থ্য থাকায় তিনি দলের ভারসাম্য বাড়াতে পারেন। অন্যদিকে গত মৌসুমে ডেজার্ট ভাইপার্সে খেলা নূর এবার যোগ দিয়েছেন দুবাইয়ে।
তবে প্রাক-নিলাম তালিকাই কোনো দলের চূড়ান্ত চেহারা নয়। আগামী ১ অক্টোবর দুবাইয়ে হবে আইএলটি২০-এর নিলাম। সেখানে স্থানীয় ও বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে দলগুলো নিজেদের স্কোয়াড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্কোয়াডে সর্বনিম্ন ১৮ এবং সর্বোচ্চ ২৩ জন ক্রিকেটার থাকতে পারবে। নিলামের পর ওয়াইল্ডকার্ডের মাধ্যমে আরও একজন ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
পঞ্চম আসরে ছয় দলের লড়াইয়ে থাকবে আবুধাবি নাইট রাইডার্স, ডেজার্ট ভাইপার্স, দুবাই ক্যাপিটালস, গালফ জায়ান্টস, এমআই এমিরেটস ও শারজাহ ওয়ারিয়র্স।



