এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। সর্বশেষ প্রকাশিত আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে উঠে এসেছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। একই সঙ্গে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন শেখ মেহেদি হাসান।
টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন মেহেদি। এর আগে এই সংস্করণে তার সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল অষ্টম। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি উইকেট নেওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি।
নাসুমের উন্নতি হয়েছে তিন ধাপ। ফলে আট নম্বরে উঠে এসেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার, যা টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং। এর আগে সর্বোচ্চ দশ নম্বরে ছিলেন নাসুম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি উইকেট নেওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ২ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান দেন তিনি।
র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের আরেক লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনেরও। এশিয়ান গেমসে দুই ম্যাচে একটি করে উইকেট পাওয়া রিশাদ দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ২৬ নম্বরে।
ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে শুধু তাওহিদ হৃদয়ের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪২ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১ রান করে তিন ধাপ এগিয়ে ৩০ নম্বরে উঠেছেন তিনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে ওপরে থাকা তানজিদ হাসান চার ধাপ পিছিয়ে যৌথভাবে ২১ নম্বরে নেমে গেছেন।
টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ভারতের শ্রেয়াস আইয়ার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৩ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দুর্দান্ত এই ইনিংসের পুরস্কার পেয়েছেন দ্রুতই-র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ১৮ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেরা দশে ঢুকেছেন আইয়ার। তার অবস্থান এখন সপ্তম।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আইয়ারের ওপরে আছেন ঈশান কিষান ও অভিষেক শর্মা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৭ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকা ঈশান শীর্ষে আছেন। ১০ বলে ২১ রান করা অভিষেক আছেন দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার তিন, চার ও পাঁচ নম্বরে রয়েছেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলার।
এদিকে টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন পাকিস্তানের আবরার আহমেদ। এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে মাত্র একটি উইকেট নেওয়া আবরার নেমে গেছেন দ্বিতীয় স্থানে। তাকে সরিয়ে আবারও শীর্ষে উঠেছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গা দখল করলেন তিনি।
র্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি হয়েছে ভারতের বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেলেরও। সর্বশেষ তিন ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়ে তিনি ১৬ ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠেছেন। একই তালিকায় নাসুম আট এবং মেহেদি নয় নম্বরে রয়েছেন।
ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস খেলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন ভারতের শুভমান গিল। ওয়ানডেতে এটি তার দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে গিলের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ পয়েন্টে।
প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করলেও পরের দুই ম্যাচে ২৯ ও শূন্য রান করেন বিরাট কোহলি। ফলে এক ধাপ নেমে তৃতীয় স্থানে চলে গেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। তার জায়গায় দ্বিতীয় স্থানে উঠেছেন ড্যারিল মিচেল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাই হোপ। অপরাজিত ১৬২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে দুই ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠেছেন তিনি। একই ম্যাচে ভারতের লোকেশ রাহুল ১০০ রান করলেও তার দল হেরে যায়। তবু ওই ইনিংসের সুবাদে সাত ধাপ এগিয়ে দশম স্থানে উঠে এসেছেন রাহুল।
ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়েও সেরা দশে নতুন মুখ দেখা গেছে। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে তিন উইকেট নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেইডেন সিলস এক লাফে ১২ ধাপ এগিয়ে দশম স্থানে উঠে এসেছেন।



