এক যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমে শুরুতেই ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে নাজমুল হোসেন শান্তর পরিণত ইনিংস আর দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে সফরকারীদের সামনে ২৮৫ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে টাইগাররা।
আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান ওপেনার সাইফ হাসান। দলীয় ১০ রানেই প্রথম ধাক্কা খাওয়ার পর দায়িত্ব তুলে নেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম।
দুজন মিলে ইনিংস গড়ার পাশাপাশি রান তোলার গতিও সচল রাখেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরায় বাংলাদেশকে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আরেকটি ফিফটি তুলে নেন তানজিদ তামিম। ৫৪ রান করে তিনি ফিরলেও তখনও ক্রিজে ছিলেন শান্ত।
তবে তামিমের বিদায়ের পর দ্রুতই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। ১৫ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। সেই পরিস্থিতিতে আবারও দলের ভরসা হয়ে দাঁড়ান শান্ত। ধৈর্য আর পরিণত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়েও ৬৭ রানে থামতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে।
শান্তর বিদায়ের পর ইনিংসের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে নিজের উপস্থিতি দারুণভাবে জানান দেন মোসাদ্দেক। শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করা এই অলরাউন্ডার হৃদয়কে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৭৫ রানের জুটি।
হৃদয় ৩১ রান করে আউট হলেও মোসাদ্দেক থামেননি। এক প্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৮৬ রান করে দলের সংগ্রহকে নিয়ে যান লড়াকু অবস্থানে। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৪৫ রানের কার্যকর জুটি বাংলাদেশের স্কোরকে আরও সমৃদ্ধ করে।
নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ২৮৪ রান, যা মিরপুরের উইকেটে নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন নাথান এলিস, তিনি নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট গেছে জাভিয়ার বার্টলেটের ঝুলিতে।
এখন দেখার বিষয়, ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের পর বল হাতেও একই ছন্দ ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলতে পারে কি না বাংলাদেশ।









Discussion about this post