মিরপুরের হতাশা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সিলেটে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সিরিজ বাঁচানোর পাশাপাশি ধবলধোলাই এড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ স্বাগতিকদের সামনে। তবে ম্যাচের শুরুতেই টস ভাগ্য সহায় হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ। ফলে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশকে শুরুতে সামলাতে হবে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়েছে সিরিজের শেষ টেস্ট। মিরপুরে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর ঘরের মাঠে সিরিজ সমতায় ফেরার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। এখন একমাত্র লক্ষ্য, শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানো এবং নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে এসেছে দুটি পরিবর্তন। মিরপুর টেস্টে ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হককে পাওয়া যাচ্ছে না। কনকাশন বদলি হিসেবে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা জাকের আলি অনিকও নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুলের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে মাঠের বাইরে থাকা মুশফিকের প্রত্যাবর্তন দলের ব্যাটিংয়ে বাড়তি অভিজ্ঞতা যোগ করবে।
অন্য পরিবর্তনটি পেস বিভাগে। শরিফুল ইসলামের জায়গায় দলে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচের মতো এবারও দুই পেসার ও তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন আসবে। নির্ধারিত অবস্থানের আগেই ব্যাট করতে নামতে পারেন অধিনায়ক শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও রয়েছে দুটি পরিবর্তন। ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় খেলতে পারছেন না ওপেনার জনাথন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল। তাঁদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার জশুয়া ডি সিলভা এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা কেভিন উইকহ্যাম। প্রথম টেস্টে দাপুটে জয় পাওয়া ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের লড়াই শুধু সিরিজের ফলাফল নির্ধারণের নয়, বরং সাম্প্রতিক ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসারও। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল শান্তদের। প্রথম ছয় টেস্টে তিন জয় ও এক ড্রয়ে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল দল। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
প্রথম টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণের সামনে দুই ইনিংসেই ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় দল। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের ১৬টিই তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা।
অথচ স্পিননির্ভর উইকেট তৈরি করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত নিজেদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা আট উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। বিপরীতে জোমেল ওয়ারিক্যান ও রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ হাতছাড়া করার ব্যর্থতাও।
তাই সিলেটের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কেবল ফলাফল বদলানো নয়, নিজেদের খেলার ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। মুশফিকের অভিজ্ঞতা, তাসকিনের গতি এবং স্পিনারদের কার্যকর ভূমিকা মিলিয়ে দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজবে।
বাংলাদেশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদি হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: জশুয়া ডি সিলভা, ব্রেন্ডন কিং, কেভিন উইকহ্যাম, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটরক্ষক), রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), জাস্টিন গ্রিভস, জশুয়া বিশপ, শামার জোসেফ, জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস।



