অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা করেছে স্বাগতিকেরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে থাকছে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের পেস-ত্রয়ী। এক বছরের বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির তিন পেসারকে একসঙ্গে টেস্ট একাদশে দেখা যাবে।
টেস্টের আগের দিনই বরাবরের রীতি অনুসরণ করে একাদশ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রত্যাশিতভাবেই দলে জায়গা পেয়েছেন হ্যাজলউড। তার জায়গা করে দিতে বাদ পড়েছেন অ্যাশেজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা স্কট বোল্যান্ড। প্রাথমিক দলে থাকা জশ ইংলিসও জায়গা পাননি।
চোটের কারণে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর এই ম্যাচ দিয়ে ফিরছেন হ্যাজলউড। গত অক্টোবরের পর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি তিনি। অ্যাশেজ সিরিজেও চোটের কারণে কোনো ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার। একইভাবে কামিন্সও অ্যাশেজে মাত্র একটি টেস্ট খেলেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচটিই ছিল তার একমাত্র টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর এবার একাদশে ফিরেছেন অফ স্পিনার নাথান লায়ন। মূল পেসারদের অনুপস্থিতিতে নিয়মিতভাবে ভালো পারফর্ম করা বোল্যান্ডকে তাই একাদশের বাইরে রাখতে হয়েছে।
বোল্যান্ড ও হ্যাজলউডের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্স। তার মতে, সামনে অনেক ম্যাচ থাকায় বোল্যান্ড খুব দ্রুতই আবার সুযোগ পাবেন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচিও তার কথার পক্ষে বড় কারণ। ডারউইন টেস্ট দিয়েই তাদের ব্যস্ততম টেস্ট মৌসুম শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ মাসে ২০টি টেস্ট খেলার কথা অস্ট্রেলিয়ার। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ২১টিতে।
ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি হবে ট্রাভিস হেড ও জেইক ওয়েদারাল্ড। অ্যাশেজেও এই দুজনকে ওপেন করতে দেখা গিয়েছিল। ডারউইনের ঘরের ছেলে ওয়েদারাল্ডের জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নর্দান টেরিটরিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। অ্যাশেজের পাঁচ টেস্টে মাত্র একটি ফিফটি করেও দলে জায়গা ধরে রেখেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যর্থ হলে তার জায়গা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তিন নম্বরে নামবেন মার্নাস লাবুশেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটে বড় রান নেই। সর্বশেষ সাত ইনিংসে কোনো ফিফটি নেই, আর ৪০ ইনিংস ধরে সেঞ্চুরির দেখা পাননি তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ৩০ ম্যাচ শেষে যেখানে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৬০-এর ওপরে, ৫০ টেস্ট শেষে তা নেমে এসেছিল প্রায় ৫০-এ। এখন তার গড় ৪৪.৭০। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজেও বড় রান করতে ব্যর্থ হলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।
চার নম্বরে থাকছেন স্টিভেন স্মিথ। পাঁচ নম্বরে খেলবেন অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন। গত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন থেকে আট-বিভিন্ন ব্যাটিং পজিশনে খেলেছেন গ্রিন। তবে অলরাউন্ডার হলেও তাকে মূলত বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি তিনি। ফলে তার ওপরও বড় রান করার চাপ থাকবে।
ছয় নম্বরে উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যালেক্স কেয়ারি। তার জায়গা নিয়ে আপাতত প্রশ্ন নেই। সাত নম্বরে থাকছেন বাউ ওয়েবস্টার। আট টেস্টের ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যে পাঁচটি ফিফটি করেছেন এই অলরাউন্ডার। দলের বিপর্যয়ের সময় কার্যকর ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রাখার সামর্থ্য রয়েছে তার।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ। অধিনায়ক কামিন্সের সঙ্গে থাকছেন স্টার্ক ও হ্যাজলউড। তাদের সঙ্গে স্পিন বিভাগ সামলাবেন লায়ন। বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে ডারউইনে।
অন্যদিকে টেস্টের আগের দিনও নিজেদের একাদশ ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাম্পে কয়েকটি ছোটখাটো চোটের কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, লিটন দাস খেলার জন্য ফিট আছেন। ফলে ম্যাচের দিন সকালে বাংলাদেশের একাদশ ঘোষণা করার সম্ভাবনাই বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত একাদশে রয়েছেন জেইক ওয়েদারাল্ড, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড। ডারউইনের কন্ডিশনে এই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ কতটা সামলাতে পারে, প্রথম টেস্টের ফল নির্ধারণে সেটিই হতে পারে অন্যতম বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের অস্ট্রেলিয়া একাদশ
জেক ওয়েদারাল্ড, ট্র্যাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড।



