জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটিয়েছেন ঢাকা বিভাগের তাইবুর রহমান, চট্টগ্রামের ইরফান সাবরি তাকরির ও রাজশাহীর প্রিতম কুমার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় দ্বিশতক তুলে রেকর্ড গড়েছেন তাইবুর। অন্যদিকে অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান ইরফান। সেঞ্চুরি পেয়েছেন রাজশাহীর অধিনায়ক প্রিতমও। বল হাতে পাঁচ উইকেট করে নিয়েছেন নাসুম আহমেদ ও আবু হায়দার রনি।
রাজশাহীতে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ঢাকা বিভাগের হয়ে ২১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তাইবুর রহমান। আগের দিন ১২৮ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় দিন নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান ২১১ রানে। ২২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তৃতীয় দ্বিশতক। বাংলাদেশের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন তিনি। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি একটি রেকর্ড।
দীর্ঘ নয় বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আবারও দ্বিশতকের দেখা পেলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। এর আগে ২০১৭ সালে ক্যারিয়ারসেরা ২৪২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে আমিনুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন তাইবুর। পরে সুমন খানকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে গড়েন ৯১ রানের জুটি। সুমন করেন ৪৪ রান। তাইবুরের ২১১ রানের ইনিংসে ভর করে ৯ উইকেটে ৫১৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। জবাবে দিন শেষে ২ উইকেটে ১৩২ রান করেছে খুলনা। আজিজুল হাকিম ৪৯ রানে অপরাজিত আছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রামের ইরফান সাবরি তাকরির। বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে অভিষেক ম্যাচেই শতকের দেখা পেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। তার আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন আসিফ আহমেদ, আফিফ হোসেন ও অমিত হাসান।
রংপুরের ১৬৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩০৪ রান করেছে চট্টগ্রাম। আগের দিন বিনা উইকেটে ৫৯ রান নিয়ে খেলা শুরু করা দলটির হয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ইরফানের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটি গড়েন সাদিকুর রহমান। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ৯০ রানে আউট হন সাদিকুর। তবে নিজের অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন ইরফান। ২১২ বলে ১৩টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রান করেন তিনি।
চলমান সেকেন্ড ইলেভেন জাতীয় লিগে ৬০২ রান করে মূল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন ইরফান। দ্বিতীয় একাদশের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা মূল দলেও ধরে রেখেছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যান।
বগুড়ায় সিলেটের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পেয়েছেন রাজশাহীর অধিনায়ক ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান প্রিতম কুমার। দলের অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১১৪ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংস প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি।
রাজশাহীর ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ১৪১ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। সেখান থেকে মোহর শেখকে নিয়ে নবম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন প্রিতম। এই জুটিতে মোহরের অবদান ছিল মাত্র ১ রান। শেষ পর্যন্ত রানআউট হয়ে থামে প্রিতমের লড়াই। তাঁর দল অলআউট হয় মাত্র ১৯২ রানে।
এর আগে ৮ উইকেটে ৩২৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে সিলেট। শেষ দুই উইকেটে মাত্র ৭ রান যোগ করে তাদের প্রথম ইনিংস থামে ৩৩৬ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৬৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে দলটি। প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রানের লিড পাওয়ায় সব মিলিয়ে ২০৮ রানে এগিয়ে আছে সিলেট।
রাজশাহীর ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। ১৬.২ ওভার বল করে ৪৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ১৪তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। চলতি এনসিএলে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন এই স্পিনার।
চট্টগ্রামে বরিশালের বিপক্ষে বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন ময়মনসিংহের বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার। চার বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঁচ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। ইনিংসের প্রথম দুই বলেই জাওয়াদ আবরার ও রাফসান আল মাহমুদকে ফিরিয়ে বরিশালকে চাপে ফেলেন আবু হায়দার রনি। পরে আরও তিন উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের সপ্তম পাঁচ উইকেট।
আগের দিন ৬ উইকেটে ২৪৭ রান নিয়ে খেলা শুরু করে ময়মনসিংহ। দ্বিতীয় দিনে আরও ১৩৯ রান যোগ করে দলটি অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে এসে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাব্বেক হোসেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেনের ছোট ভাইয়ের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই প্রথম ম্যাচ। এ ছাড়া উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ফাহিম করেন ৫৯ রান।
জবাবে বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান আবু হায়দার। দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান তুলেছে দলটি। ফলো-অন এড়াতে এখনো প্রয়োজন ১০১ রান। বরিশালের হয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে ১২৮ বলে ৮০ রান করেছেন ফজলে মাহমুদ। তবে দিনের শেষ ওভারে তাঁকেই ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন আবু হায়দার। তাঁর বোলিং ফিগার ৮.৫ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট।



