সিলেট টেস্টে চতুর্থ দিনটি বাংলাদেশের জন্য হতাশার হয়ে থাকল। তাওহীদ হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে সেই সুবিধা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ক্যারিবীয় ব্যাটার কাভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচে এখন শক্ত অবস্থানে সফরকারীরা।
আজ চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কাভেম হজ ১৮৯ বলে ১৭টি চার ও একটি ছক্কায় ১৪০ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। অন্য প্রান্তে আমির জাঙ্গু ৪৯ বলে ২০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। চতুর্থ উইকেটে এখন পর্যন্ত দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৬১ রান।
দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৭ রান। দুই ওপেনার জশুয়া ডা সিলভা ও ব্র্যান্ডন কিং সাবধানী ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন। ৮৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ে ৩০ রান করে ফেরেন ডা সিলভা।
এরপর কাভেম হজকে নিয়ে জুটি গড়েন ব্র্যান্ডন কিং। তবে ব্যক্তিগত ১৬ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বিপদে পড়েও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হজ। ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে তাঁর ক্যাচ নেওয়া হলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাট কিংবা গ্লাভসে স্পর্শ করেনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ৩৪ রান যোগ করার পর কিংকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি দেন মিরাজ। নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ৮৪ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ৬১ রান করা এই ওপেনারের ইনিংসের ইতি ঘটান। ১১৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে এরপর আর বাংলাদেশের বোলাররা কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। তৃতীয় উইকেটে কাভেম হজ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত কেভিন উইকহাম মিলে গড়েন ১৬৫ রানের বড় জুটি। ২২১ বলের এই জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দিকে নিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উইকহাম ৭৮ রান করে আউট হলেও হজ অবিচল থেকে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি।
চতুর্থ দিনের পুরোটা সময় ব্যাটিংবান্ধব উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়েছে সফরকারীরা। ৭৯ ওভার ব্যাট করে ৩৩৮ রান যোগ করেছে তারা। বিপরীতে বাংলাদেশের বোলাররা পেয়েছেন মাত্র তিনটি উইকেট। তাইজুল ইসলাম দুটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩৮৬ রান। ফলে ৩০ রানের লিড পায় স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দারুণ সাফল্যের পর বোলারদের কাছ থেকেও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের বিবর্ণ বোলিংয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এখন পঞ্চম ও শেষ দিনের অপেক্ষা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একপর্যায়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে পারে। তবে ৩১৫ রানের লিড পুঁজি করে সফরকারীরা যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তাতে ম্যাচ বাঁচানোই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫ রান। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই চতুর্থ ইনিংসে এই রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই টাইগারদের। ফলে সিলেট টেস্টে জয়ের আশা জিইয়ে রাখতে হলে শেষ দিনে অসাধারণ কিছু করতে হবে বাংলাদেশকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৫৬ ও ৩৪৫/৩ (কাভেম হজ ১৪০*, কেভিন উইকহাম ৭৮, ব্র্যান্ডন কিং ৬১; তাইজুল ২/১১৮, মিরাজ ১/৫৮)।
বাংলাদেশ: ৩৮৬ (তাওহীদ হৃদয় ২৪২*, মুশফিকুর রহিম ৩৪; ওয়ারিক্যান ৪/১০৪)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে ৩১৫ রানে।



