ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ, তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেলেন তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একাই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে হৃদয়ের অসাধারণ শতকের পরও স্বস্তিতে নেই স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ তৃতীয় দিন লাঞ্চ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২০৫ রান করেছে বাংলাদেশ। এখনও পিছিয়ে ১৫১ রানে।
টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন হৃদয়। ১৭১ বল মোকাবিলা করে ১০০ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। তার ইনিংসে ভর করেই বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েও ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। অন্যপ্রান্তে তাইজুল ইসলাম অপরাজিত আছেন ১ রানে।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাড়ে তিনশ রানের ইনিংস খেলেছিলেন হৃদয়। সেই পারফরম্যান্সের পরই তাকে টেস্ট দলে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এবার আন্তর্জাতিক টেস্টে নিজের প্রথম শতক তুলে নিয়ে সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন এই ব্যাটার। মিরপুর টেস্টের পর তার টেস্ট খেলার সামর্থ্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও যেন ব্যাট হাতে জবাব দিলেন তিনি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয় আগের দিন থেকেই। তিন উইকেটে ৫১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করা স্বাগতিকরা তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই হারিয়েছে আরও চার উইকেট। একের পর এক অভিজ্ঞ ব্যাটার সাজঘরে ফিরলেও অবিচল ছিলেন হৃদয়।
চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই জুটিতেই নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন হৃদয়। তবে ৩৪ রান করে মুশফিকের বিদায়ে ভাঙে জুটি। এরপর লিটন দাসের সঙ্গে হৃদয়ের জুটি টিকেছে মাত্র ১৪ রান। ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে আরও ৪১ রান যোগ করেন হৃদয়। ১৬ রান করে মিরাজ ফিরলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। রোস্টন চেজের বলে জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এরপর হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ফলে একপ্রান্তে হৃদয়ের লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে হৃদয়ের সেঞ্চুরি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুশফিকুর রহিমের পর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কোনো পরীক্ষিত মিডলঅর্ডার ব্যাটারের কাছ থেকে এমন টেস্ট শতক দেখা যায়নি। অথচ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ম্যাচে ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ছিল দুটি শতরানের বেশি রানের জুটি। বিপরীতে বাংলাদেশের ইনিংসে এখন পর্যন্ত বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। হৃদয়ের সঙ্গে মুশফিকের জুটিই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিরোধ।
উইকেট যে পুরোপুরি ব্যাটিংয়ের অনুপযোগী নয়, হৃদয়ের ইনিংসই তার প্রমাণ। মূলত ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দুর্বলতাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিরপুর টেস্টে হারের পর সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর যে প্রত্যাশা ছিল, ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই লক্ষ্য এখন কঠিন হয়ে উঠেছে।
হৃদয়ের সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জন্য ব্যক্তিগত অর্জন ও আত্মবিশ্বাসের বড় উপলক্ষ হলেও দলীয় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রথম ইনিংসে বড় ঘাটতি কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার জন্য শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৩৫৬/১০
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৬৯ ওভারে ২০৫/৭ (তাওহীদ হৃদয় ১০০*, মুশফিকুর রহিম ৩৪, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮, তানজিদ হাসান ১৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬; জোমেল ওয়ারিক্যান ৩/৬০, রোস্টন চেজ ১/২৭, জাস্টিন গ্রিভস ১/১০, আলজারি জোসেফ ১/৪২, জেইডেন সিলস ১/২৯)।



