আবুধাবি টেস্টে জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৭ উইকেট। অন্যদিকে, রেকর্ড ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে আফগানিস্তানকে করতে হবে আরও ৩৪৭ রান। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। হাশমতউল্লাহ শহীদি ১৯ ও সেদিকুল্লাহ আতাল ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন।
মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে দুই দলের সামনে পরিষ্কার সমীকরণ। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণার পর আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিটন দাস। তার ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ৫২ রানে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনের সকালে আগের দিনের ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। লিটন ও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় দলটি। সপ্তম উইকেটে দুজনের জুটিতে আসে ১৪৯ রান। ২০১ বলের এই জুটি ভাঙার আগে লিটন যোগ করেন আরও ৯৭ রান। ১১৭ বলে ১৪টি চারে সাজানো তার ইনিংসটি শেষ হয় ১০২ রানে। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি।
অন্য প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে মিরাজ ৯২ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। তার অপরাজিত ৫২ রানের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার। লিটন আউট হওয়ার পরপরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতেই আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ২৮ রানের মধ্যেই হারায় দুই উইকেট। তবে এরপর সেদিকুল্লাহ আতাল ও অধিনায়ক রহমত শাহ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় আফগানরা। চা বিরতিতে দলটির সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫১ রান। বিরতির পরও বেশ কিছুক্ষণ বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন দুই ব্যাটার।
তৃতীয় উইকেটে আতাল ও রহমত শাহর ৮২ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। তার বলে আউট হওয়ার আগে রহমত ১২৪ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৫১ রান। এর আগে স্লিপে রহমতের ক্যাচ ফেলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন এবাদত। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। অন্য উইকেটটি পেয়েছেন হাসান মাহমুদ।
টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার পেছনে রয়েছে বড় লক্ষ্য এবং আফগানিস্তানের রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ। টেস্ট ইতিহাসে সফলভাবে রান তাড়া করে জয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪১৮ রানের। সেই হিসাবে ৪৭৯ রান করতে হলে নতুন ইতিহাস গড়তে হবে আফগানিস্তানকে। দলটির নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও মাত্র ১৪৯ রান।
এ ছাড়া পঞ্চম দিনের উইকেটে ব্যাটিং সাধারণত আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পিচের ক্ষয় বাড়লে স্পিনাররা সুবিধা পেতে পারেন, বলও অসমানভাবে ঘুরতে বা স্কিড করতে পারে। ফলে শেষ দিনে আফগান ব্যাটারদের জন্য লক্ষ্য তাড়ার পাশাপাশি উইকেটে টিকে থাকাও হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও রেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস। চলতি টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর ডিসমিসাল এখন আটটি। প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুটি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে খালেদ মাসুদের সাতটি ডিসমিসালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন লিটন।
একই টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং অন্তত আটটি ডিসমিসালের কীর্তিও বিরল। টেস্ট ইতিহাসে এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসে। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে তিনি দুই ইনিংসে ৬৯ ও ১৮২ রান করার পাশাপাশি আটটি ক্যাচ নিয়েছিলেন।



