কাউন্টি দল কেন্টের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারও বল হাতে নিজের কার্যকারিতার প্রমাণ দিলেন তিনি। ক্যান্টারবুরিতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছেন খালেদ। তার সঙ্গে ম্যাট মিলনেসের ৪ উইকেটের সুবাদে গ্লুচেস্টারশায়ার প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ২২৯ রানে।
গ্লুচেস্টারশায়ারকে কম রানে অলআউট করাই শুধু কেন্টের জন্য স্বস্তির বিষয় নয়, দ্রুত প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে ফেলায় মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ বোনাস পয়েন্টও। কাউন্টির নিয়ম অনুযায়ী, ১১০ ওভারের মধ্যে প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে পারলে বোলিংয়ে ৩ বোনাস পয়েন্ট পাওয়া যায়। গ্লুচেস্টারশায়ারকে কেন্ট অলআউট করেছে মাত্র ৬৯.৫ ওভারে। ফলে প্রমোশনের লড়াইয়ে থাকা দলটির জন্য এই অতিরিক্ত পয়েন্ট শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচটিই কেন্টের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে জয় পেলেই প্রথম বিভাগে প্রমোশন নিশ্চিত করবে কেন্ট। ১৯৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নর্দাম্পটনশায়ার, যাদের পয়েন্ট ১৯১। দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলেও কেন্ট এগিয়ে থাকবে, কারণ চলতি মৌসুমে নর্দাম্পটনশায়ারের চেয়ে তাদের জয় দুটি বেশি।
মৌসুমের শেষ ম্যাচের প্রথম দিন শেষে প্রমোশনের লড়াইয়ে কেন্টই ভালো অবস্থানে আছে। গ্লুচেস্টারশায়ারকে ২২৯ রানে অলআউট করার পর দিন শেষে কেন্টের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭১ রান। অন্যদিকে নর্দাম্পটনশায়ারের পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন। মিডলসেক্সের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে তারা। জবাবে ২৫৫ রান তুলে ১৫২ রানের লিড নিয়েছে মিডলসেক্স।
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন্টের বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল খালেদের। সেই দায়িত্বে তিনি সফলও হয়েছেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের দারুশ আহমেদ, সাই কিশোর ও চে সিমন্সকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। এর মধ্যে দারুশ আহমেদ ও সাই কিশোরকে পরপর দুই ওভারে আউট করে গ্লুচেস্টারশায়ারের ব্যাটিংয়ে চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি।
কেন্টের হয়ে খালেদের ধারাবাহিকতার আরেকটি প্রমাণ মিলেছে আগের ম্যাচেও। সর্বশেষ ম্যাচে দলটির হয়ে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই এবার মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। তাঁর বোলিংয়ের পাশাপাশি মিলনেসের ৪ উইকেটে দ্রুত গুটিয়ে গেছে গ্লুচেস্টারশায়ার। ফলে শেষ ম্যাচে জয় এবং প্রমোশন নিশ্চিত করার পথে কেন্টকে আপাতত ভালো অবস্থানেই রেখেছে তাদের বোলিং আক্রমণ।



