পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়। একের পর এক সাফল্যে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে বদলেছে আত্মবিশ্বাসের ভাষা। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে দল-আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।
বাংলাদেশের সামনে এখনো ছয়টি টেস্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুটি করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরও দুটি টেস্ট। এই ছয় ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয় পেলেই ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের। আর সেই সম্ভাবনাকে কেবল সমীকরণ হিসেবে দেখছেন না স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ; বরং বিশ্বাস করছেন, ধারাবাহিক ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে শিরোপার মঞ্চেও পৌঁছানো সম্ভব।
চলমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে ছয় ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। পয়েন্ট শতাংশ ৫৫.৫৬। ফাইনালে উঠবে টেবিলের শীর্ষ দুই দল। ফলে সামনের ছয় ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে বড় পরীক্ষার মঞ্চ।
মিরপুরে বয়সভিত্তিক দলের স্পিনারদের নিয়ে ক্যাম্প চলাকালে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুশতাক। ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ চাইলে কেন নয়? আমরা এখন দারুণ একটা অবস্থানে আছি। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস ধরে রাখতে পারি, তাহলে ভালো ক্রিকেট খেলতে খেলতে আল্লাহ চাইলে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতার পথেই যেতে পারি।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জয়টিই যেন এই বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। ডারউইনে ৯ উইকেটের সেই জয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গুরুত্বপূর্ণ সেই পারফরম্যান্সের পর মুশতাকের অবদানও আলাদাভাবে তুলে ধরেছিলেন মিরাজ।
তবে মুশতাকের কাছে স্পিন বোলিংয়ের সাফল্যের রহস্য খুব জটিল কিছু নয়। তার মতে, উইকেট পাওয়ার আগে একজন স্পিনারকে বুঝতে হবে পিচ, পরিস্থিতি এবং ব্যাটসম্যান-সবকিছুর সমন্বয়।
মিরাজকে দেওয়া নিজের পরামর্শের কথা বলতে গিয়ে মুশতাক বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টা সহজ। ব্যাটসম্যানকে আউট করতে হলে ভালো ওভার করতে হবে। পিচ বুঝতে হবে, কতটা ওভারস্পিন করতে হবে, কতটা স্পিন করতে হবে, কোন অ্যাঙ্গেল থেকে বল করতে হবে- ক্রিজের কতটা বাইরে থেকে, নাকি স্টাম্পের কাছাকাছি থেকে এসব কৌশল বুঝতে হবে।’
শুধু বলের ঘূর্ণন বা লাইন-লেন্থ নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াকেও স্পিন বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন মুশতাক। কখন আক্রমণে যেতে হবে আর কখন রান আটকে রাখা বেশি জরুরি-এই পার্থক্যই একজন স্পিনারকে কার্যকর করে তোলে বলে মনে করেন তিনি।
সঙ্গে যোগ করেন, ‘এরপর বুঝতে হবে, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কী বলছে। স্পিন বোলিংয়ে সব সময়ই একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন আক্রমণ করা যাবে না। এটা কি এমন পরিস্থিতি, যেখানে রান আটকানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নাকি উইকেট নেওয়া? পিচ যখন ঘুরছে, তখন কী ধরনের ফিল্ডিং সাজাতে হবে? ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গা কী? এসব বিষয়ই তাদের শেখাতে হবে। ভালো বল নয়, ভালো ওভারই আপনাকে উইকেট এনে দেবে।’
অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া জয় তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়; সেটি সামনে থাকা বড় লক্ষ্যকে আরও দৃশ্যমান করেছে। এখন সেই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে বাকি ছয় টেস্টে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে।



