এক পয়েন্টের ব্যবধান। তাতেই বদলে গেল আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান। দীর্ঘ সময় ধরে এক নম্বরে থাকা আফগানিস্তানের রশিদ খানকে সরিয়ে সিংহাসনে বসেছেন পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। সর্বশেষ আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে আবরারের রেটিং ৭৩৬, রশিদের ৭৩৫।
রশিদের এই পতনের পেছনে বড় কোনো ধস নেই। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবই বলছে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সামান্য ওঠানামাতেও অবস্থান বদলে যেতে পারে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় রশিদের রেটিং কমেছে। আর সেই সুযোগেই এক পয়েন্টের ব্যবধানে তাকে পেছনে ফেলেছেন আবরার।
মজার ব্যাপার হলো, আবরার এই সময়ের মধ্যে কোনো ম্যাচ না খেলেও এক নম্বরে উঠে এসেছেন। র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবটা শুধুই কে সর্বশেষ ম্যাচে কত উইকেট নিলেন, তার সরল প্রতিফলন নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও রেটিংয়ের পরিবর্তনের সমন্বিত হিসাব।
তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে রশিদ দুইয়ে নেমেছেন বলেই টি-টোয়েন্টির বোলার হিসেবে তার আধিপত্য কমে গেছে-এমনটা বলার সুযোগ নেই। বরং উইকেটের হিসাব সামনে আনলে চিত্রটা একেবারেই আলাদা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রশিদ খানের উইকেট ১৯৭টি। তার পরেই রয়েছেন ইংল্যান্ডের আরেক লেগ স্পিনার আদিল রশিদ, যার ঝুলিতে ১৭১ উইকেট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বোলারের চেয়েও রশিদ এগিয়ে ২৬ উইকেটে। বয়সেও তিনি আদিলের চেয়ে ১০ বছরের ছোট এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরও অনেকটা পথ সামনে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের তালিকায় এরপর রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধি, টিম সাউদি ও শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার মতো বোলাররা। সাউদি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রশিদের ১৯৭ উইকেটের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ সবার জন্যই সহজ নয়।
তবে রশিদের সবচেয়ে বড় আধিপত্য দেখা যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে সব ধরনের টি-টোয়েন্টিতে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তার উইকেট ৭৪০টি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুনীল নারাইনের উইকেট ৬৫৮টি। অর্থাৎ রশিদ ও নারাইনের ব্যবধানই ৮২ উইকেট।
রশিদের এই পরিসংখ্যানের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের টি-টোয়েন্টিতে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন এখনো আর কোনো বোলার। নারাইন ৬৫৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভো ৬৩১ উইকেট নিয়ে তৃতীয়। ব্রাভো ইতোমধ্যে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন।
তালিকার চার নম্বরে থাকা ইমরান তাহিরের বয়স ৪৭। তিনি এখনো কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললেও ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে। পাঁচ নম্বরে থাকা আন্দ্রে রাসেলও আইপিএল থেকে অবসর নিয়েছেন এবং তার ক্যারিয়ারও শেষ অধ্যায়ের দিকে।



