ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগের (সিপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য দিনটি ছিল পুরোপুরিই হতাশার। আগের তিন ম্যাচে বল হাতে ৯ উইকেট নিয়ে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বাংলাদেশি অলরাউন্ডার এবার ব্যাটে প্রথম বলেই আউট হয়েছেন। বল হাতেও পাননি কোনো উইকেট। তাঁর দলও শেষ পর্যন্ত অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে।
ব্রিজটাউনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না গায়ানার। সাত ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৪০ রান। গ্লেন ফিলিপস ও মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়ালের ব্যাটে প্রথম চার ওভারে আসে ২৬ রান। ডিন্ডিয়াল ফেরার পর ফিলিপসের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শেই হোপ। সাত ওভার পর্যন্ত গায়ানার ব্যাটিং দেখে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু এরপরই শুরু হয় ধস। পাকিস্তানের দুই রিস্ট স্পিনার শাদাব খান ও সুফিয়ান মকিমের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে গায়ানা। মকিমের করা ওভারের প্রথম বলেই ফেরেন ফিলিপস। ওই ওভারেই তিনি আউট করেন মোহাম্মাদ হারিসকে। পরের ওভারে শাদাবের ঘূর্ণিতে আসে আরও তিন উইকেটের নাটকীয় পতন।
শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন শাদাব। পরের বলেই তার গুগলিতে এলবিডব্লিউ হন মিরাজ। হ্যাটট্রিক বলে আরেকটি গুগলিতে কুয়েন্টিন স্যামসনকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন পাকিস্তানি লেগ স্পিনার। ফলে মিরাজের ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র এক বল।
ব্যাটিংয়ে শূন্য রানে থেমে যাওয়ার পর বল হাতেও মিরাজের কাছ থেকে আসেনি আগের ম্যাচগুলোর মতো কোনো সাফল্য। ১.২ ওভার বল করে ১০ রান দেন তিনি, থাকেন উইকেটশূন্য। অথচ আগের তিন ম্যাচে তার শিকার ছিল ৯ উইকেট। ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দলের সবচেয়ে কার্যকর বোলারদের একজনও এদিন নিজের ছন্দ খুঁজে পাননি।
মিরাজের আউটের পর গায়ানার বিপর্যয় আরও তীব্র হয়। শাদাব ও মকিম মিলে মাত্র ২০ বলের মধ্যে গায়ানার ৮ উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ৭৬ রানে অলআউট হয় প্রাথমিক পর্বের সেরা দলটি। শাদাব ১৬ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন, আর মকিম চার উইকেট নেন মাত্র ১৩ রান দিয়ে।
জবাবে ৭৭ রানের লক্ষ্য অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স পেরিয়ে যায় মাত্র ৫.২ ওভারে। রাকিম কর্নওয়াল ১৬ বলে ছয় ছক্কায় করেন ৪৯ রান। এভিন লুইস ১৩ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন।



