ডারউইনে জয়ের ধারাটা থামল বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের। টপ এন্ড টি-টুয়েন্টিতে প্রথম তিন ম্যাচে টানা জয় পাওয়ার পর চতুর্থ ম্যাচে এসে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির কাছে ২১ রানে হেরেছে এইচপি। আজ হারলেও টুর্নামেন্টের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশি দল।
অ্যাডিলেডের ১৬৫ রানের লক্ষ্যটা খুব বড় মনে হয়নি। বরং বাংলাদেশের বোলাররা ইনিংসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিলেন। কিন্তু রান তাড়ায় প্রথম বলেই জিসান আলমের বিদায় যেন ম্যাচের গল্পের প্রথম সতর্কবার্তা হয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত সেই শুরু থেকে আর পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এইচপি।
ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম আরিফুল ইসলাম। এক প্রান্ত আগলে ৫৪ বলে ৬৬ রান করে লড়াইটা শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় তাঁর ইনিংসটি হয়ে পড়ে একাকী লড়াই।
দ্বিতীয় উইকেটে আরিফুলের সঙ্গে হাবিবুর রহমান ৪৫ বলে যোগ করেন ৬১ রান। সেই জুটি আশা দেখালেও হাবিবুর ১৮ বলে ২৩ রান করে ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে হাতছাড়া হতে থাকে। সাব্বির রহমান ৮ বলে ৫ এবং অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ৭ বলে ৫ রান করে আউট হলে আবারও চাপে পড়ে এইচপি।
পঞ্চম উইকেটে শামীম হোসেন পাটোয়ারী কিছুটা সময় আরিফুলকে সঙ্গ দেন। তবে ১৮ বলে ১৮ রান করে তাঁর বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে আসে বড় ধস। মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। শেষ ওভার শুরুর আগে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩৩ রানের। শেষ পর্যন্ত ওই ওভারে ১১ রান তুলেই ৯ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে এইচপি।
এর আগে টসে জিতে অ্যাডিলেডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৪ রান ওঠার পর কন্নর ক্যারলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ রুবেল। পরের ওভারেই জের্সিস ওয়াদিয়াকে ফেরান আবু হায়দার রনি। এরপর হেনরি হান্ট এক প্রান্ত ধরে রাখলেও নিয়মিত উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে পারেনি অ্যাডিলেড।
হান্ট ২৯ বলে ৩৫ রান করেন। তবে ইনিংসের শেষদিকে বাংলাদেশি বোলারদের চাপে পড়ে ৯ উইকেটে ১৬৪ রানেই থামে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল আবদুল গাফফার সাকলাইন। শেষ ওভারে ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচ করে মোট ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। মোহাম্মদ রুবেল নেন ৩ উইকেট, একটি করে উইকেট পান রনি ও রাকিবুল।
তবু বোলারদের সেই লড়াইকে শেষ পর্যন্ত জয়ে রূপ দিতে পারেনি ব্যাটিং বিভাগ। ১৬৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৪৩ রানে থেমে যাওয়ার ব্যবধানটা শেষ পর্যন্ত ২১ রান। ফলে টুর্নামেন্টে টানা তিন জয়ের পর প্রথম হারের মুখ দেখল বাংলাদেশ এইচপি।
হারলেও পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এইচপি। চার ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে স্বাগতিক নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকও ৬ পয়েন্ট পেয়েছে, তবে বাংলাদেশের নেট রান রেট (+১.১০৮) তাদের চেয়ে ভালো (+০.৬২৬)। টুর্নামেন্টের শীর্ষ চার দল উঠবে প্লে-অফে।
হারের পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুব বেশি দূরে নয়। আগামী পরশুই নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ এইচপি। ডিএক্সসি অ্যারেনায় তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দল। প্রথম তিন ম্যাচের ছন্দে ফেরার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ওই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের শেষদিকের ধস সামলানোই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।



