সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে পুরো ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। এতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রান। হাতে রয়েছে আরও সাত উইকেট, যা তৃতীয় দিনে বড় সংগ্রহ গড়ার আশা আরও উজ্জ্বল করেছে।
দিনের শুরু থেকেই আজ আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশের বোলিং। মেঘলা আবহাওয়া ও পেস সহায়ক উইকেটকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখেন তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। আগের দিন বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা পাকিস্তান দ্রুতই ধাক্কা খায়। দিনের দ্বিতীয় ওভারে আব্দুল্লাহ ফজলকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন। এরপর আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসও তার শিকার হন। ২৬ রানেই দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
এই অবস্থায় বাবর আজম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অধিনায়ক শান মাসুদকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও মেহেদী হাসান মিরাজ এসে সেই জুটি ভেঙে দেন। ২১ রান করা মাসুদকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে আরও বিপদে ফেলেন তিনি। এরপর সৌদ শাকিলও মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ফাঁদে পড়েন। চাপে পড়ে সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন লিটন দাসের গ্লাভসে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৬ রান।
বাবর আজম অবশ্য একপ্রান্তে দৃঢ় ছিলেন। সময় নিয়ে ব্যাট করে ৬৩ বলে ফিফটি তুলে নেন পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। নাহিদ রানার গতিময় ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমের হাতে। ৮৪ বলে ১০ চার হাঁকিয়ে ৬৮ রান করেন বাবর। তার বিদায়ের পর দ্রুত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের মিডল ও লোয়ার অর্ডার।
স্পিন আক্রমণে তাইজুল ইসলাম ছিলেন দুর্দান্ত। আগা সালমান, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হাসান আলীকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পথ সহজ করে দেন তিনি। শেষদিকে সাজিদ খান কিছুটা ঝড় তোলেন। তাইজুলের এক ওভারে টানা তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। মাত্র ২৮ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন সাজিদ। তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার বলেই থামতে হয় তাকে। তানজিদ হাসান তামিমের দারুণ ক্যাচে ২৩২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শিকার করেন দুটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করা বাংলাদেশ এভাবেই পেয়ে যায় মূল্যবান ৪৬ রানের লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও হতাশ করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। মাত্র ৪ রান করে খুররম শাহজাদের বলে আউট হন তিনি। তবে অন্যপ্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মাহমুদুল হাসান জয়। ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা এই ব্যাটার ৬৪ বলে ১০ চারে ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। মুমিনুল হকের সঙ্গে গড়েন ৭৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
জয়ের বিদায়ের পর ইনিংসের দায়িত্ব নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মুমিনুলকে নিয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। মুমিনুল ৬০ বলে ৩০ রান করলেও দিনের শেষ দিকে খুররম শাহজাদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এরপরই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। শান্ত ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন।
প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের ১৫৯ বলে খেলা ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে এখন ম্যাচে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।










Discussion about this post