নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দলকে ভরসা দেওয়া এই ব্যাটার ইনিংসের পর অবশ্য কিছুটা শঙ্কাও ছড়িয়েছিলেন। ম্যাচের মধ্যে ক্র্যাম্পড হয়ে পড়েন তিনি। মাঠে চিকিৎসা নিতে হয়, চলাফেরাতেও দেখা যায় অস্বস্তি। তবে ম্যাচ শেষে শান্ত নিজেই দ্রুত সেরে ওঠার আশাবাদ জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশ দলের জন্য এখন বড় প্রশ্ন, পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে তিনি খেলতে পারবেন কি না। কারণ, মে মাসের শুরুতেই মাঠে গড়াচ্ছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। আর টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্ত। সিরিজ শুরুর আগে তাই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি নজর রয়েছে দল ব্যবস্থাপনায়।
এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অবশ্য আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, শান্তকে নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে টেস্ট দলে থাকা যেসব ক্রিকেটার টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নেই, তারা মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছেন। কোচ সোহেল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চলছে সেই প্রস্তুতি ক্যাম্প। সেখানে এসে ঘুরেও গেছেন শান্ত। যা তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বিসিবির চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘এটা (চোট) আমার কাছে তেমন খারাপ মনে হয়নি। সে (শান্ত) ২৮ এপ্রিল আসবে এবং তাকে আমরা দেখব। আমি যতটুকু শুনেছে এবং যেটুকু তথ্য পেয়েছি চোটটাকে আমার অত খারাপ মনে হয়নি। এখন তার (শান্তর) কোনো ব্যথা নেই, হাঁটলেও কোনো ব্যথা হচ্ছে না। তবুও শারীরিকভাবে তার পরীক্ষা করে দেখা হবে।’
দেবাশীষ চৌধুরীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ব্যথা না থাকা এবং হাঁটাচলায় সমস্যা না হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে চিকিৎসক দল কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাই মাঠে ফেরার আগে পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের টেস্ট দল এখন এমন এক সময়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, যখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ৮ মে ঢাকা টেস্ট দিয়ে শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজ। এই সিরিজ আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় প্রতিটি ম্যাচের মূল্য আলাদা।










Discussion about this post