বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের জন্য নতুন সম্মাননা চালু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ নামে বিশেষ এই উদ্যোগে জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কেরা পাচ্ছেন আজীবন নানা সুবিধা। শুধু স্মারক নয়, মাঠে প্রবেশ থেকে চিকিৎসা সহায়তা-একাধিক সুবিধা থাকছে এই কার্ডে।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ডটির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি শুধু একটি কার্ড নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করা ব্যক্তিদের জন্য আজীবন পরিচয়পত্র।
তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ড দেখিয়ে বাংলাদেশের যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচে প্রবেশ করতে পারবেন অধিনায়কেরা। আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি টুর্নামেন্ট, দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক সিরিজ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট-সব ক্ষেত্রেই এটি বিশেষ পাস হিসেবে কাজ করবে। তাঁর ভাষায়, কোনো সাবেক অধিনায়ককে যেন আর কখনো টিকিটের লাইনে দাঁড়াতে না হয়, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
শুধু মাঠে প্রবেশ নয়, স্টেডিয়ামে পার্কিং সুবিধাও থাকছে কার্ডধারীদের জন্য। পাশাপাশি তাঁদের জন্য থাকবে বিশেষ লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, যেখানে খেলা উপভোগের পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা থাকবে।
কার্ডটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চিকিৎসা সুবিধা। জানা গেছে, অবসরের পর সাবেক অধিনায়কেরা স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বিসিবির মেডিকেল সহায়তাও তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ক্রিকেট-পরবর্তী জীবনে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের অধিনায়কেরা উপস্থিত ছিলেন। রাকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলীরাও ছিলেন সেখানে। অনেকের কাছে এটি ছিল একরকম পুনর্মিলনী।
তবে কয়েকজন আলোচিত সাবেক অধিনায়ক অনুষ্ঠানে ছিলেন না। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়, সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান উপস্থিত ছিলেন না। সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ফারুক আহমেদও অনুপস্থিত ছিলেন।
এ নিয়ে তামিম বলেন, তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। যারা অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি, তাদের জন্যও কার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশে ফিরলেই কিংবা সুবিধাজনক সময়ে তারা কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।










Discussion about this post