ঢাকায় আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে আবারও আলোচনায় উঠেছে মুশফিকুর রহিমের ওয়ানডে দলে ফেরার সম্ভাবনা। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বর্তমানে ঘরোয়া লিগ ও টেস্ট ক্রিকেটেই মনোযোগী। তবে মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতার অভাব থেকেই তাঁর ফেরার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।
এ বিষয়ে আজ বুধবার বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘মুশফিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সে টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেবে। সে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা দারুণ অর্জন। ভবিষ্যতে কী হয় তা দেখা যাবে।’
বাংলাদেশের ওয়ানডে মিডল অর্ডার নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগও তুলে ধরেন সিমন্স, ‘আমাদের খেলার প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতির জায়গা আছে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে ৫, ৬, ৭ এবং ৮ নম্বর পর্যন্ত উন্নতির অনেক সুযোগ আছে এবং আমরা ক্রমাগত উন্নতির চেষ্টা করছি। শেষ ১০ ওভারে আমরা ভালো করছি, যেমনটা পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আমরা ৮০ রান তুলেছিলাম।’
দলের বাইরে থাকা সৌম্য সরকার প্রসঙ্গেও কথা বলেন কোচ। তিনি বলেন, ‘সৌম্য চমৎকার খেলোয়াড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সে ভালো খেলেছিল। কিন্তু মাঝে সে অনেক ক্রিকেট মিস করেছে এবং যারা তার জায়গায় খেলেছে তারা ভালো করেছে। তাই তাকে ফেরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব নিয়েও জোর দেন সিমন্স, ‘আমাদের প্রায় সব ব্যাটসম্যানই ঘরোয়া ক্রিকেটে টপ অর্ডারে ব্যাটিং করে। কিন্তু যখন তারা এখানে আসে, তাদের বিভিন্ন পজিশনে মানিয়ে নিতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় বিষয় হলো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া, ঘরোয়া ক্রিকেটে কী করেছেন তা নয়।’
এরই মধ্যে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ড দল। নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় সফরে আসেননি। ফলে অনেকেই এই দলকে ‘দ্বিতীয় সারির’ হিসেবে দেখছেন। তবে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন সিমন্স।
তিনি বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় সারির দল বলব না। আমার মনে হয় যেকোনো দেশ যে দল পাঠায় সেটাই তাদের সেরা দল, বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের ক্ষেত্রে। সেখানে সবসময় নতুন খেলোয়াড় উঠে আসে। আর একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এই খেলোয়াড়রা সবাই ঘরোয়া ক্রিকেটে সব ফরম্যাটেই অনেক ম্যাচ খেলেছে। তাই তারা অভিজ্ঞ এবং পরিণত ক্রিকেটার। কেউ হয়তো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি, কিন্তু জীবনে অনেক ক্রিকেট খেলেছে। তাই ‘দ্বিতীয় দল’ বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।’









Discussion about this post