মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৭৪ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। উড়ন্ত সূচনা ও মাঝের দিকে বড় জুটি গড়ে তুললেও শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের দারুণ প্রত্যাবর্তনে ৩০০ রানের আগে থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংস। শেষ ৪৩ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট হারিয়ে ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে। ফলে ম্যাচ জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৭৫ রান। এই ম্যাচে জয় পেলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করবে স্বাগতিকরা।
টসে হেরে মিরপুরে আজ আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তান। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখেন। বিশেষ করে সাদাকাত ছিলেন বেশ আগ্রাসী। মাত্র ৩১ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেওয়া এই ব্যাটার ৪৬ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। দুই ওপেনারের জুটিতে আসে ১০৩ রান।
ইনিংসের ১৩তম ওভারে সাদাকাতকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর ফারহান কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও বেশি দূর যেতে পারেননি। ৪৬ বলে ৩১ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে আউট হন তিনি। তিন নম্বরে নামা শামিল হুসাইনও ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। নাহিদ রানার বলে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে করেন মাত্র ৬ রান। তখন ১২২ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা। ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেন তারা এবং চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১০৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ফিফটিও তুলে নেন সালমান। তবে ৬২ বলে ৬৪ রান করার পর বিতর্কিত এক রানআউটে বিদায় নিতে হয় তাকে। মেহেদী হাসান মিরাজের দিকে বল ছুঁড়ে দেওয়ার সময় নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ক্রিজের বাইরে চলে গেলে মিরাজ বল ধরে তাকে রানআউট করে দেন।
একই ওভারের শেষ বলে রিজওয়ানও আউট হয়ে গেলে হঠাৎ করেই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে ৫৯ বলে ৪৪ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর শেষ দিকে আর বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তান। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
হুসাইন তালাত ১৩ বলে ৯, আবদুল সামাদ ৭ বলে ১১ এবং ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে ১৪ রান করে আউট হন। শেষদিকে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিমকেও ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিশাদ হোসেন, তিনি নেন তিনটি উইকেট। দুই উইকেট শিকার করেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট নেন।









Discussion about this post