মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ মানেই অনেকের মনে ফিরে আসে ২০১৫ সালের স্মৃতি। সেই বছর এই ভেন্যুতেই তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। এবারও ভেন্যু একই, আর প্রথম ম্যাচ জয়ের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, আজপুরোনো সেই চিত্রনাট্য কি আবারও ফিরতে যাচ্ছে?
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিখুঁত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ৩৪.৫ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ফলে অনেকের কাছেই সিরিজ জয়ের দৌড়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা না থাকলে আগের ম্যাচের পারফরম্যান্স কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যেমন ভালো খেলেছে, তেমনি পাকিস্তানও ছিল নিজেদের ছায়া হয়ে। এমনকি ম্যাচে বাংলাদেশকে বড় কোনো পরীক্ষার মুখেও পড়তে হয়নি।
দলের দারুণ শুরুর পর ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও সন্তুষ্ট। তাঁর মতে, এ বছর সামনে অনেক ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে এবং র্যাঙ্কিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিরিজের শুরুটা ভালো হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।
প্রথম ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য ছিল হতাশার। অনিশ্চয়তার জন্য পরিচিত দলটি খুব সম্ভবত সিরিজের সবচেয়ে বাজে দিনটিই কাটিয়েছে সেই ম্যাচে। তাই দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে তারা মরিয়া থাকবে-এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তাঁর মতে, পাকিস্তান শক্তিশালী দল এবং তারা অবশ্যই নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করতে চাইবে।
এই সিরিজে পাকিস্তান এসেছে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে তারা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রথম ম্যাচে অভিষেক হয়েছে চার ব্যাটারের-সাহিবজাদা ফারহান, আবদুল সামাদ, মাজ সাদাকাত ও শামিল হুসেনের। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের শুরুটা সুখকর হয়নি। বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ের সামনে তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। গতি আর বাউন্সারের চাপে অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগাও সুবিধা করতে পারেননি। ফলে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৪ রানে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিংয়েও ছন্দহীন ছিল সফরকারীরা। অল্প রান রক্ষার চাপ থাকলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি পাকিস্তানের বোলাররা। পুরো ইনিংসে তারা ১৪টি ওয়াইড দেন, যা তাদের অগোছালো পারফরম্যান্সেরই প্রতিচ্ছবি।
তবে সিরিজ বাঁচাতে হলে আজকের ম্যাচে পাকিস্তানকে ভিন্ন চেহারায় দেখা যেতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ হবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স ধরে রাখা। হাবিবুল বাশারের মতে, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ খুব খারাপ খেলেনি, তবে পারফরম্যান্সের গ্রাফে ওঠানামা বেশি হয়েছে। তাই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর মতে, পাকিস্তান যদি আড়াই শ রানও করে, তবু জয়ের মানসিকতা এবং সামর্থ্য দেখাতে হবে বাংলাদেশকে।
প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ সম্ভবত একই একাদশ ধরে রাখতে পারে। তবে পাকিস্তান শিবিরে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দলে ফেরানো হতে পারে পেসার হারিস রউফকে। এখন দেখার বিষয়, মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের দাপট অব্যাহত থাকে, নাকি পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে সমতা ফেরায়।









Discussion about this post