দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কবে তিনি দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরেই ছিল নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা। অবশেষে নিজেই দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন সাবেক এই অধিনায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক ইফতার অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যাব, ইনশাআল্লাহ দ্রুত। ইনশাআল্লাহ।’
সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। তবে ওই বছরের জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আর দেশে ফেরেননি তিনি। মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এসব কারণেই এতদিন তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে ছিল।
তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলানোর পর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
এদিকে বিসিবি আগেই সাকিবকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নথি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলেও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ঘরের মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিব সবশেষ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের মে মাসে। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
প্রায় ১৬ মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারের ফেরার সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় আসে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভার পর। এরপর নতুন সরকারের অধীনে বিষয়টি আরও জোরালো হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর জানান, সাকিবকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে রাষ্ট্র নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি আগে হওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক পডকাস্টে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ফাইল যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের আগ্রহ দেখা গেছে।
আসিফ আকবর আরও বলেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ফাইল যাওয়ার পরে তাদের যে আগ্রহ এবং গতকাল আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ৫ আগস্টের পরে যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলোর যাচাই-বাছাই করা হবে। সত্যতা কতটুকু, কতটুকু সঠিক, কতটুকু যৌক্তিক, কতটুকু অযৌক্তিক চেক করা হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা একটা ইতিবাচক আবহ দেখতে পাচ্ছি। এখন শুধু সংক্ষেপে বলতে চাই, সাকিব আল হাসান আসবেন এবং আমরা উৎসবমুখর থাকব ইনশা আল্লাহ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু হবে।’









Discussion about this post