বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান বা সূচি দিতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্লাব বয়কট, সূচি জটিলতা এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে ডিপিএলের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।
গত বছর পুরুষদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। একইভাবে নারী ডিপিএল আয়োজন করা হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ। তবে চলতি বছরে এখনো কোনো লিস্ট-এ টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত করতে পারেনি বিসিবি। ফলে নতুন মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেট কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
নারী ডিপিএল নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। গত ২ মার্চ নারী লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৯টি দলের মধ্যে ৬টি ক্লাব উপস্থিত ছিল। সভায় অংশ নেওয়া তিনটি ক্লাব লিগ শুরু করার পক্ষে মত দিলেও অন্য ক্লাবগুলো জানিয়ে দেয়, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা না খেললে তারা লিগে অংশ নেবে না।
তবে বিসিবি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জাতীয় দলের নারী ক্রিকেটাররা আপাতত ঘরোয়া লিগে খেলতে পারবেন না। কারণ সামনে রয়েছে আইসিসি নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং মার্চ–এপ্রিল সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল)। বিসিবির নারী উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করেই তাদের ঘরোয়া লিগে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লিগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে পুরুষদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আরও বড় সংকটে পড়েছে ক্লাব বয়কটের কারণে। গত অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকটি ক্লাব লিগ বয়কটের ঘোষণা দেয়। সেই অবস্থান এখনো বদলায়নি।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমান বোর্ডকে তারা বৈধ মনে করছেন না। তাই এই বোর্ড ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত কোনো ঘরোয়া লিগে অংশ নেবে না ক্লাবগুলো। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
গত নভেম্বরে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ঘিরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ১৬টি ক্লাব নির্বাচন বয়কট করে। তারা অভিযোগ তোলে যে নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ ছিল না। এরপর থেকেই ক্লাব ক্রিকেটে অস্থিরতা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে ঢাকার প্রায় ৪৫টি ক্লাব বর্তমান বিসিবির অধীনে সব ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে অনেক ক্লাব অংশ না নিলেও বিসিবি বাকি দলগুলো নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল। কিন্তু এবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, যা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লিস্ট–এ টুর্নামেন্ট।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দলবদল নিয়েও কোনো স্পষ্টতা নেই। বয়কট করা ক্লাবগুলো এখনো তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে লিগ আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরের আগে লিগ শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এরই মধ্যে বিসিবি সভাপতিও দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং লিগ আয়োজন নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেননি।
সব মিলিয়ে ক্লাব বয়কট, সূচি জটিলতা এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসর আদৌ মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।









Discussion about this post