রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে উত্তরাঞ্চল। দক্ষিণাঞ্চলকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে তারা, তাও ইনিংসের প্রায় অর্ধেক ওভার হাতে রেখেই। বল হাতে এসএম মেহরব ও নাহিদ রানা, আর ব্যাট হাতে লিটন দাসের দৃঢ়তায় ম্যাচটি একতরফা হয়ে ওঠে।
টস হেরে আজ আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংস থামে মাত্র ১৪৪ রানে, ৩০.৫ ওভারে। শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। টপ অর্ডারের চার ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি, যা দলকে বড় চাপে ফেলে দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন মোহাম্মদ মিঠুন। ৭০ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আগের ম্যাচেও অর্ধশতক করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখা মিঠুন এদিনও ছিলেন ব্যতিক্রম। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান করেন ২৩ বলে ২৪ রান, রবিউল হক যোগ করেন ২২ বলে ২৯। তবে বাকিরা ব্যর্থ হওয়ায় দলীয় সংগ্রহ বড় হয়নি।
উত্তরাঞ্চলের বোলাররা ছিলেন নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক। এসএম মেহরব মাত্র ১০ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। সমান তিন উইকেট নেন নাহিদ রানাও। এছাড়া মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন।
১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য মসৃণ ছিল না উত্তরাঞ্চলের। দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ হওয়ার আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। তবে সেখান থেকে হাল ধরেন লিটন দাস। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়ে তোলেন তিনি। ৬৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনমতো আক্রমণের মিশেল।
তাওহীদ হৃদয় ৪৬ বলে ৩৩ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন। শেষ দিকে ২২ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন আকবর আলী। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ৫ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও সেটি কেবল ব্যবধান কমাতেই ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত ২৫.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় উত্তরাঞ্চল।










Discussion about this post