বিপিএলের ম্যাচ দেখতে এসে যারা উত্তেজনা আর প্রত্যাশা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন, তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা দুটি ম্যাচের টিকিট কাটা দর্শকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। দিনভর বিশৃঙ্খলা ও নাটকীয় পরিস্থিতির পর বিসিবির এই সিদ্ধান্ত এসেছে দর্শকদের ক্ষোভ ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই।
বিসিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দুটির জন্য যারা টিকিট কিনেছিলেন, তারা বিসিবির নির্ধারিত অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টাকা ফেরতের আবেদন করতে পারবেন। টিকিট কেনার সময় যে ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানেই রিফান্ড সংক্রান্ত দাবি জানানো যাবে। এ ছাড়া দর্শকদের সহায়তার জন্য একটি যোগাযোগ নম্বরও চালু রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ম্যাচ দিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল বিপিএলের ঢাকা পর্ব। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার কথা ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দর্শকদের ভিড় জমে। অনেকে গ্যালারিতে বসে পড়েন, আবার অনেকেই মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রবেশের অপেক্ষা করতে থাকেন।
কিন্তু ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্য পরিস্থিতিকে হঠাৎ জটিল করে তোলে। তার পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটাররা ওই দিনের খেলা বর্জন করলে দুই ম্যাচের কোনো দলই মাঠে নামেনি। একপর্যায়ে স্টেডিয়ামের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হলে মাঠে ঢুকতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও খেলা শুরু না হওয়ায় গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের বড় একটি অংশ হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়েন। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও ক্রিকেট না দেখে ফিরে যান, কেউ আবার স্টেডিয়ামের গেট থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকা দর্শকরাও কাটান এক সম্পূর্ণ ক্রিকেটবিহীন দিন।
এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের বৈঠকের পর জানানো হয়, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং শুক্রবার থেকেই আবার বিপিএল মাঠে গড়াবে। বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবারে। যারা ওই দিনের টিকিট আগেই কেটেছেন বা কাটবেন, তারা পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। একইভাবে পরবর্তী দিনগুলোর ম্যাচও এক দিন করে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে যারা বৃহস্পতিবার মাঠে এসে খেলা না দেখে ফিরে গেছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। বিসিবির গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান জানিয়েছেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতিতে দর্শকদের ভোগান্তির বিষয়টি বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। সে কারণেই দ্রুত রিফান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকেও দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেছেন, দর্শকরাই ক্রিকেটের প্রাণ, তাদের হতাশ করা কারও কাম্য ছিল না। বিসিবি ও ক্রিকেটার—উভয় পক্ষই আশা করছে, খেলা পুনরায় শুরু হলে দর্শকদের সমর্থন আবার মাঠে ফিরে আসবে।










Discussion about this post