ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচ শুরু হলো না। নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে নির্ধারিত ম্যাচের সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল না। কারণ, ক্রিকেটাররা দাবি করেছেন, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে তারা মাঠে নামবেন না।
আজ বনানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনসহ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট দাবি হলো, নাজমুলকে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটাররা খেলার জন্য প্রস্তুত, তবে শর্ত একটাই- দাবি পূরণ।
ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা সবসময় বলি বোর্ড আমাদের অভিভাবক। তারা এমন মন্তব্য করলে আমাদের জন্য দুঃখজনক। জিনিসটা আসলে এরকম না। আমরা যে টাকা আয় করি, বেশিরভাগ আইসিসি ও স্পন্সর থেকেই আসে। আজ বিসিবির যে টাকা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে একটা ম্যাচও যে খেলেছে তারও এখানে অংশ আছে। প্রতিটি মানুষের কষ্টের বিনিময়ে আজকের বোর্ডের টাকা। এতে প্রত্যেক মানুষের হক আছে।”
মিরাজ আরও বলেন, “মাঠে খেলা হচ্ছে বলেই বোর্ড ভালো জায়গায় আছে। খেলাই যদি না হয়, স্পন্সরও আসবে না, আইসিসি থেকে লভ্যাংশও আসবে না।” নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে ব্যক্তিগত সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করেননি মিরাজ। তিনি বলেন, “এটা শুধু ব্যক্তিগত না। ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই এটা লজ্জাজনক। উনি যে মন্তব্য করেছেন জানি না কীভাবে করেছেন বুঝে নাকি না বুঝে, আমার কাছে এটার ব্যাখ্যা নাই। তিনিই এটা ভালো জানেন। তার জায়গা থেকে এমন মন্তব্য করা ঠিক না। দায়িত্বে থেকে এমন মন্তব্য করা উচিত না।”
তিনি ভুল ধারণারও স্পষ্ট সমাধান দেন, “অনেকের ধারণা সরকার থেকে আমরা টাকা পাই। না, আমরা মাঠে খেলেই সম্পূর্ণ টাকা পাই। আমরা যে আয় করি, আমরাই সবচেয়ে বেশি আয়কর দেই, ২৫–৩০ শতাংশ সরকারকে টাকা দেই।”
বিসিবি সকালে জানায়, এম নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। তবে ক্রিকেটাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শোকজ নোটিশ তাদের দাবির বিকল্প নয়।
ফলে, বিপিএলের ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচ স্থগিত। কোয়াবের অনড় অবস্থান স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছে, দাবির বাস্তবায়ন না হলে ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন না, যা দেশের ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।








Discussion about this post