ক্রিকেটারদের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ না আসায় দেশের ক্রিকেট কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত ও ধারাবাহিক মন্তব্যের পর তাঁর পদত্যাগ দাবি করে আলটিমেটাম দেয় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে আজ বেলা একটার মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না এলে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও নাজমুল ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এর প্রভাব সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে বিপিএলে। দুপুরের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের খেলোয়াড়রা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পৌঁছাননি। মাঠে খেলা গড়ানো নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। ক্রিকেটাররা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, পদত্যাগ না হলে তারা কোনো ম্যাচ খেলবেন না—এবং সেই সিদ্ধান্তেই তারা অনড় থাকেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবির একাধিক পরিচালক ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে নাজমুলকে অর্থ বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে ক্রিকেটারদের কাছে সেটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট-পরিচালকের পদে থেকে দায়িত্ব বদল কোনো সমাধান নয়, বরং নাজমুলের সম্পূর্ণ পদত্যাগই একমাত্র দাবি।
এর মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, এম নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটাররা এটিকে যথেষ্ট পদক্ষেপ বলে মনে করছেন না। তাদের মতে, শোকজ নোটিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
এই অবস্থায় কোয়াবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরুতে বনানীতে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও পদত্যাগের ঘোষণা না আসায় ম্যাচের সময় হোটেল শেরাটনে সংবাদ সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি। এতে বিপিএলে অংশ নেওয়া ছয় দলের ক্রিকেটারদের একত্রিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ক্রিকেটারদের আলটিমেটামের পর প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগও গভীর রাতে স্থগিত করা হয়, যা সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।
এই পুরো উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গতকাল বিসিবির দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্য থেকে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বিসিবির কোনো ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদেরই। তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটাররা ভালো না খেললে বোর্ড কি তাদের পেছনে খরচ করা কোটি কোটি টাকা ফেরত চাইবে-এমন প্রশ্নও তোলেন।
এই বক্তব্যগুলোকে ক্রিকেটাররা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসম্মানজনক বলে মনে করছেন। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন গতকাল রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন, একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক এমন ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এম নাজমুল বিপিএল ম্যাচ শুরুর আগে পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন না।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগের কোনো ঘোষণা না আসায় বিপিএলসহ দেশের সামগ্রিক ক্রিকেট কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।










Discussion about this post