নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ৪১ রানের জয়ে সত্যিকার নায়ক ছিলেন অনন্য পারফরম্যান্স করা হাসান ইসাখিল। ম্যাচে বাবার অবদান বল হাতে দুই উইকেট, ব্যাট হাতে ১৩ বলে ১৭ রান, যদিও এই সংখ্যার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে উঠলেন নবী নয়, বরং তার সন্তান, যিনি একই দলে বাবার সঙ্গে খেললেন এবং চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রান যোগ করে দলের জয় নিশ্চিত করলেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মোহাম্মদ নবী একজন গর্বিত বাবা হিসেবে হাজির হলেন। নবীর চোখে মুখে দেখা যাচ্ছিল আনন্দ, গর্ব আর সন্তানের পাশে থাকার উচ্ছ্বাস। সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন বাবা-ছেলের ছোটখাটো রসিকতা, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, এবং ক্রিকেটের প্রতি আবেগ মিলেমিশে একটি উজ্জ্বল মুহূর্ত তৈরি করেছিল। সাংবাদিকদের অনেকেরই এটি এক নতুন অভিজ্ঞতা ছিল—কেউ কখনও বাবা-ছেলের একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন কাভার করেননি।
এই ম্যাচটি ছিল বিশেষ, কারণ এর আগে ছয়টি টি-টোয়েন্টিতে নবী ও হাসান প্রতিপক্ষ হিসেবে খেললেও আজ প্রথমবার একই দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তারা। শুধু ম্যাচে অংশগ্রহণই নয়, তাঁরা একসঙ্গে ব্যাটিংও করেছেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৫৩ রানের জুটি নোয়াখালীর সংগ্রহকে ১৮৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি লিগে বাবা-ছেলের এমন একসঙ্গে ব্যাটিং প্রথমবারের মতো ঘটেছে।
মোহাম্মদ নবী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “একসঙ্গে খেলতে পারায় খুবই খুশি। আমি তাকে পরিস্থিতি বোঝাই, পরবর্তী বল কেমন হতে পারে সেটা বলি। সে খুব ভালো খেলেছে।”
৪১ বছর বয়সী এই আফগান অলরাউন্ডার দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে দেশের ক্রিকেটের বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী। সাধারণত সাংবাদিকদের সঙ্গে খুব বেশি মুখোমুখি হন না তিনি, কিন্তু ছেলের সঙ্গে একই দলে খেলার আনন্দে সব আবদার মুছে গিয়েছিল।
হাসান ইসাখিলও সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “আমি বাবাকে কপি করি না। আমার শটগুলো স্বাভাবিকভাবেই হয়। বাবার সঙ্গে খেলতে পেরে অনেক শিখতে পারছি। আমরা একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখি, এ জন্যই আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগ দিচ্ছি।”
নবী ও হাসান শুধু মাঠে নয়, অনুশীলনেও একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। গত পরশুই নবী ছেলেকে নেটে বল দিয়েছেন, আর ক্রীড়া চর্চা থেকে শুরু করে মাঠের কৌশল পর্যন্ত শেয়ার করেছেন। মাঠে বাবা-ছেলের সাদৃশ্য চোখে পড়েছে, বিশেষ করে ব্যাটিং স্টাইল। তবে পার্থক্যও আছে, নবী মূলত অলরাউন্ডার, বোলিংয়ের দিকে হাসানের আগ্রহ কম।
হাসান শেষ পর্যন্ত ৯২ রানে আউট হন, সেঞ্চুরি থেকে মাত্র আট রান দূরে। তবে তিনি আফসোস করেননি। তিনি জানান, “আমি আসলে ছক্কার কথাই ভাবছিলাম। বড় সংগ্রহ দিতে চেয়েছি। সেঞ্চুরি মিস হলেও আমি দুঃখিত নই।” বাবার প্রশংসা করেছেন, সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “তিনি সবসময় বন্ধুর মতো পাশে থাকেন, তবে অনুশীলনে একটু কঠোর।”
মোঃ নবী ও হাসান ইসাখিলের প্রথম একসঙ্গে ম্যাচ ও সংবাদ সম্মেলন কেবল জয়ের স্বীকৃতি নয়, বরং ক্রিকেটের মাধুর্য, পিতৃত্ব, গর্ব ও নতুন প্রজন্মের প্রতি অনুপ্রেরণার চিহ্ন হয়ে রইল।









Discussion about this post