বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরপর দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দলটি এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটে হারানোর পর একই মাঠে সিলেট টাইটানসকে ৯ উইকেটে পরাজিত করে নিজেদের সামর্থ্যেরই প্রমাণ দিল চট্টগ্রাম।
আজ টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট টাইটানস, তবে শুরু থেকেই তাদের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে। ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজকে ফিরিয়ে দেন মুকিদুল ইসলাম। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে সিলেট।
হজরতউল্লাহ জাজাই, ইথান ব্রুকস ও আফিফ হোসেন কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। এক পর্যায়ে মাত্র ৩৪ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
মাঝের ধস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আফগান অলরাউন্ডার দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৪১ বলে ৪৪ রান করেন। পারভেজ হোসেন কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৭ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৬ রানে। চট্টগ্রামের হয়ে শেখ মেহেদী হাসান ও মির্জা বেগ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার, দুজনেই নেন দুটি করে উইকেট।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে পরিকল্পিত আক্রমণে রান তুলতে থাকেন তারা। ওপেনিং জুটিতে ১১৫ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার।
নাঈম ৩৭ বলে ফিফটি পূরণ করে ৫২ রানে আউট হলেও তাতে কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি। অপর প্রান্তে রসিংটন ছিলেন অবিচল, ৫৩ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাদমান ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলকে সহজ জয় এনে দেন। ১৬ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।
এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন চট্টগ্রামের বোলাররা, যারা শুরুতেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। ব্যাটাররা এরপর দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে কাজটি সহজ করে নেন। ম্যাচসেরা হন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মালিকানা সংকট ও দল গঠনের জটিলতায় থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চেহারায়। বিসিবির তত্ত্বাবধানে খেলতে নেমে চার ম্যাচে তিনটি জয় তুলে নিয়ে তারা এখন ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।
তারা ৪ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। টানা দুই ম্যাচে দলটি জিতল বড় ব্যবধানে। ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট তাদের। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পয়েন্টও ৬, তবে নেট রান রেটে এগিয়ে বন্দরনগরীর দল।










Discussion about this post