সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য যেন স্বপ্নের মতোই কাটল। প্রথম সেশনের পুরোটা সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল টাইগারদের হাতে-প্রথমে বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ডকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়া, পরে ওপেনারদের দুর্দান্ত জুটিতে ইনিংসের মজবুত ভিত্তি গড়া-সব মিলিয়ে নিখুঁত একটি সেশন উপহার দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ২৭০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে আয়ারল্যান্ড। কিন্তু সকালে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ফেরেন ম্যাথু হামফ্রেস, এরপর হাসান মাহমুদ আউট করেন ব্যারি ম্যাককার্থিকে। তাতেই ২৮৬ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস। পল স্টার্লিং (৬০), ক্যাড কারমাইকেল (৫৯) এবং কার্টিস ক্যাম্ফার (৪৪) ছাড়া কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক তিন উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ, দুইটি করে পান তাইজুল, হাসান মাহমুদ ও হাসান মুরাদ, এবং একটি নেন নাহিদ রানা।
এরপর ব্যাট হাতে নামেন সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। শুরু থেকেই তারা আইরিশ বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। বলের লাইন–লেংথের তোয়াক্কা না করে আত্মবিশ্বাসী স্ট্রোকে এগিয়ে যান দুই ওপেনার। ২০ ওভারের মধ্যেই দলীয় রান একশ ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ৪৯ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় নিজের সপ্তম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন সাদমান, অন্যপ্রান্তে জয়ও থেমে থাকেননি ৭২ বলে ৫০ রান করে টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।
২০২৩ সালের পর এই সংস্করণে এটি জয়ের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস।
লাঞ্চ বিরতির সময় ২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৯ রান, কোনো উইকেট হারায়নি দল। সাদমান ৬৭ বলে অপরাজিত ৫৮, জয় ৭৭ বলে অপরাজিত ৫০ রানে খেলছিলেন। প্রথম ইনিংসে আয়ারল্যান্ডের ২৮৬ রানের জবাবে বাংলাদেশের এমন শুরু নিঃসন্দেহে দলকে বড় আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।










Discussion about this post