বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তার শেষ নেই। নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী সোমবার প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ভোটার তালিকার খসড়া। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশ তো দূরের কথা, মধ্যরাত পর্যন্ত বসা বোর্ড সভায়ও অনুমোদন পেল না কাউন্সিলর তালিকা। ফলে শুরুতেই ভেঙে গেল তফসিলের ধারাবাহিকতা।
সভাপতির একক সিদ্ধান্তেই এর সূত্রপাত। কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য যে সময়সীমা প্রথমে ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সেটি এক দফা বাড়িয়ে হয় ২২ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পরে আবারও সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিজস্ব ক্ষমতাবলে বাড়িয়ে দেন সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। আরও বিস্ময়ের, এত গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন তিনি নিজেই, প্রধান নির্বাহীকে নয়। বোর্ড পরিচালক ইফতেখার রহমানও মেনে নিয়েছেন, সভাপতি কাউকে না জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সময়সীমা শেষ হলেও নাটক থেমে থাকেনি। সোমবার রাত ৯টার পরও বিসিবিতে জমা পড়েছে কাউন্সিলরদের নাম। সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের নামও এসেছে সময়সীমার পর। অথচ বোর্ড মুখপাত্র ইফতেখার মিঠু বলেন, ‘৬টার পর আর সময় বাড়ানো হয়নি।’ তাহলে সময় শেষ হওয়ার পর কেন নাম নেওয়া হলো? এই প্রশ্নে তিনি বারবার জবাব এড়িয়ে গিয়ে বললেন, সব নামই শুধু ‘নোট’ করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রক্রিয়াটি আদালতের গলিপথেও আটকা পড়েছে। সময় বাড়ানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন কাউন্সিলরের করা রিটে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, যদিও পরে চেম্বার আদালত সেটি ঠেকিয়ে দেয়। ফলে আইনি অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।
বিসিবির নির্বাচনী মাঠে তাই উত্তেজনা বাড়ছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ কয়েকজন সাবেক পরিচালক অভিযোগ তুলেছেন, এটি আসলে নির্বাচন নয়, বরং ‘সিলেকশন’। সরকারের একটি অংশ ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্লাব প্রতিনিধিরা।
সভাপতির কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবারের মতো তিনি নীরব থেকেছেন, সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি। দায়িত্ব গিয়ে পড়েছে পরিচালকদের কাঁধে, যারা আবার নিজেদের অসহায়ত্বই বেশি প্রকাশ করেছেন। এক পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘এত মানুষ প্রাণ দিয়েছে স্বৈরাচার হটানোর জন্য, নতুন স্বৈরাচার তৈরি করার জন্য নয়।’
এতসব বিতর্কের ভিড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই-৬ অক্টোবর কি আদৌ নির্ধারিত সময়ে বিসিবি নির্বাচন হবে? ভোটার তালিকা নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটলে নির্বাচন কমিশনের সামনে কি সঠিকভাবে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে? ক্রিকেটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতটা রোমাঞ্চকর, বোর্ডরুমে ততটাই জটিল হয়ে উঠছে খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের লড়াই।










Discussion about this post