জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রিকেটারদের মূল্যবান মালামালসহ আটটি লাগেজ উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ লাগেজগুলোতে ছিল দামি আইফোন, নগদ টাকা, মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট, বিশেষ ম্যাসাজ বেল্ট, স্পিকার ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী। ঘটনার পর নাটোর ও রাজশাহী জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালক সজীব হোসেনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি শুধু কয়েকটি লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার বিষয় নয়; বরং বিসিবির পরিবহন ব্যবস্থায় ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ও মূল্যবান মালামাল কীভাবে বহন করা হচ্ছিল, সেগুলোর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং যাত্রাপথে ঠিক কী ঘটেছিল-এসব প্রশ্ন সামনে এনেছে।
ঘটনাটি ঘটে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে ঢাকার উদ্দেশে নয়, ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে। বুধবার সকালে রাজশাহীতে পৌঁছে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় ক্রিকেটাররা দেখতে পান, মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে আটটি নেই। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
নিখোঁজ লাগেজের সংখ্যা মোট লাগেজের তুলনায় কম হলেও সেগুলোতে থাকা মালামালের মূল্য ও গুরুত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত অর্থ ও পাসপোর্টের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রীও হারিয়ে যায়। তবে লাগেজগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে উধাও হয়েছে, কখন সেগুলোর অনুপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করা হয় এবং পরিবহনের সময় মালামালের হিসাব রাখা হয়েছিল কি না-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
খোয়া যাওয়া মালামালের তালিকায় ক্রিকেটার এসএম মেহেরাব হোসেনের লাগেজটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই লাগেজে ছিল একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, নগদ তিন লাখ টাকা, পাসপোর্ট, পারফিউম ও জামাকাপড়।
ক্রিকেটার আব্দুল কাদেরের লাগেজে ছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের বিশেষ ম্যাসাজ বেল্ট ও পোশাক। মোহর শেখ অন্তরের লাগেজে ছিল দামি জেবিএল স্পিকার। এ ছাড়া ক্রিকেটার মো. ওয়ালিদসহ অন্য খেলোয়াড়দের কয়েকটি লাগেজে প্রয়োজনীয় পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রী ছিল।
এই তালিকা থেকে স্পষ্ট, ঘটনাটি ক্রিকেটারদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রের পাশাপাশি আর্থিক মূল্যসম্পন্ন সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ নথিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। তবে খোয়া যাওয়া প্রতিটি সামগ্রীর মোট আর্থিক মূল্য কত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ঘটনার পর বিসিবি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। নাটোর ও রাজশাহী জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া মালামালের সিংহভাগ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক সজীব হোসেনকে আটক করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির এক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “বিসিবি ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। নাটোর ও রাজশাহী জেলা পুলিশ যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যেই খোয়া যাওয়া মালামালের সিংহভাগ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। আটক চালক সজীবকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি মালামাল উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
তবে চালককে আটক করার অর্থই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। কীভাবে লাগেজগুলো উধাও হয়েছিল, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না এবং উদ্ধার হওয়া মালামালের বাইরে আর কী কী বাকি রয়েছে-এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের বিস্তারিত তথ্যও এখনো সামনে আসেনি।
বিসিবির কাভার্ডভ্যানে মোট ৫৪টি লাগেজ বহন করা হচ্ছিল। সেখান থেকে আটটি লাগেজ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পরিবহনের সময় মালামালের তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে লাগেজগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, কাভার্ডভ্যানের নিরাপত্তা বা নজরদারির ব্যবস্থা ছিল কি না, যাত্রাপথে কোথাও গাড়ি থামানো হয়েছিল কি না কিংবা লাগেজ হস্তান্তরের দায়িত্বে কারা ছিলেন-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তে এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধু খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করাই নয়, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করাও জরুরি। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিবহনের ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
আগামী ১৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে মাঠে নামবে রাজশাহী বিভাগ। ম্যাচটির আগে খোয়া যাওয়া মালামালের অধিকাংশ উদ্ধার হওয়ায় দলের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।



