আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বাদ পড়ার পর খুব বেশি সময় নষ্ট হয়নি মুস্তাফিজুর রহমানের। ভারতের লিগের দরজা বন্ধ হতেই তাঁর নাম উঠে এসেছে পাকিস্তান সুপার লিগের নিলামে, যেখানে বড় অঙ্কের টাকার লড়াই অপেক্ষা করছে। ১১ ফেব্রুয়ারির নিলামই ঠিক করে দেবে, আইপিএলের পর পিএসএলে মুস্তাফিজের বাজারদর কতটা জায়গা পায়।
২০২৬ পিএসএলে এবার ড্রাফট নয়, সরাসরি নিলাম পদ্ধতিতে খেলোয়াড় বাছাই করবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরিতেই মুস্তাফিজের নাম থাকবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে ভিত্তিমূল্য ২ কোটি ২০ লাখ রুপি বা প্রায় ৯৬ লাখ টাকা। নিচের দুই ক্যাটাগরিতে এই অঙ্ক নেমে আসে যথাক্রমে ৪৮ লাখ ও ২৬ লাখ টাকার কাছাকাছি।
নিলামে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১৯ কোটি ২৭ লাখ। সরাসরি চুক্তির পথ বেছে নিলে কোনো দল চাইলে বাজেট বাড়িয়ে ৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি, অর্থাৎ প্রায় ২২ কোটি টাকার বেশি পর্যন্ত খরচ করতে পারবে। অর্থাৎ অর্থের দিক থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হাতে সুযোগ আছে, যা অভিজ্ঞ বিদেশি বোলারদের দাম বাড়াতে পারে।
মুস্তাফিজের পিএসএল অভিজ্ঞতা আগেও রয়েছে। ২০১৮ সালে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে পাঁচ ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। সাত বছর পর আবার সেই লিগে ফিরলে অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার হিসেবে তাঁর চাহিদা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে কাটার আর বৈচিত্র্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের কার্যকারিতা দেখানোয় নিলামে তাঁর দিকে নজর থাকবে বলেই ধারণা।
৬ জানুয়ারি পিএসএল নিজেদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে মুস্তাফিজের নাম নিশ্চিত করে লিখেছিল, ‘ব্যাটারদের সাবধানেই খেলতে হবে। ১১তম পিএসএলে নাম লিখিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।’ যদিও কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে নেবে বা কত দামে নেবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম ও তাসকিন আহমেদের মতো বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাও নিলামে নাম তুলেছেন।
এবারের পিএসএলে নতুন করে যুক্ত হয়েছে হায়দরাবাদ ও শিয়ালকোট-দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। আট দলের এই টুর্নামেন্টে নতুন দল যোগ হওয়ায় বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য বাজারও বড় হয়েছে। প্রতিটি দলে পাঁচ থেকে সাতজন বিদেশি ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ থাকায় মুস্তাফিজের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা থাকছে।
২৬ মার্চ শুরু হবে পিএসএলের নতুন আসর, ফাইনাল ৩ মে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তি হবে দুই বছরের জন্য, অর্থাৎ একবার ভালো দামে দল পেলে মুস্তাফিজের জন্য তা শুধু একটি মৌসুম নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিশ্চয়তাও এনে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা কাটিয়ে পিএসএলের নিলাম হতে পারে মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য নতুন আর্থিক সুযোগের মঞ্চ। ১১ ফেব্রুয়ারি নিলামে শেষ পর্যন্ত তার দাম কত ওঠে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।









Discussion about this post