শুরুটা হয়েছিল হতাশা দিয়ে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ দলকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠেছিল-বিদেশের মাটিতে কি আবারও ব্যর্থতার গল্পই লিখতে যাচ্ছে টাইগাররা? কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব দিল মাঠেই। টানা দুই ম্যাচ জিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোরও গল্প।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সঙ্গে ফিল্ডারদের তৎপরতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের দারুণ অর্ধশতকে জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ ওভারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত শেখ মেহেদী হাসানের বাউন্ডারিতে স্বস্তির জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় এই সিরিজ জয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর দলের ঘুরে দাঁড়ানোর দিকটিকেই বড় করে দেখছেন তিনি।
হৃদয় বলেন, ‘সব জয়ই বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা জানি গত দুই সিরিজে আমরা ভালো করতে পারিনি। এই সিরিজে ভালো করেছি।’
প্রথম ম্যাচের হার যে দলের জন্য বড় শিক্ষা হয়ে এসেছে, সেটিও স্পষ্ট করেছেন অধিনায়ক। তাঁর মতে, সেই পরাজয়ের পরই নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছে পুরো দল, আর সেখান থেকেই বদলে গেছে সিরিজের চিত্র।
হৃদয় বলেন, ‘আসলে প্রথম ম্যাচে হারার পর আমরা বুঝার চেষ্টা করেছি কোথায় আমাদের ঘাটতি ছিল। কোথায় উন্নতি করে আগাতে হবে। প্রথম ম্যাচ হারার পর খুব ভালো একটি মিটিং হয়েছে আমাদের। এই কন্ডিশনে কীভাবে মানিয়ে নিয়ে এগোতে হবে সেই ব্যাপারে আলাপ করেছি আমরা। ব্যাটিং বোলিং দুই ইউনিটই প্ল্যান নিয়ে পরিষ্কার ছিল। আমরা কেবল প্ল্যানেই ফোকাস করেছি এবং চেষ্টা করেছি প্ল্যাব কাজে লাগানোর। শেষ দুই ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জিততে পেরেছি এটাই আমাদের জন্য জরুরি ব্যাপার।’
এই সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বোলিং বিভাগে। শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা চোটে পড়ায় সীমিত বিকল্প নিয়েই খেলতে হয়েছে দলকে। তবে সেই সংকটকে অজুহাত না বানিয়ে বিকল্পদের দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়ায় সন্তুষ্ট অধিনায়ক।
হৃদয় বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। দুই বোলার (শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা) ইঞ্জুরড হয়েছে। ১৩ জনের স্কোয়াড নিয়ে খেলতে হয়েছে। লিমিটেড অপশন নিয়ে খেলে জিততে পেরেছি এটাই আমাদের জন্য জরুরি ব্যাপার৷ সাথে আমাদের চ্যালেঞ্জ মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে এবং সামনে আগাতে হবে। রানা ইঞ্জুরড হয়েছে, সে আমাদের বড় শক্তি। আমাদের হাতে লিমিটেড অপশন ছিল। তবে রানার বদলে আজকে (আবদুল গাফফার) সাকলাইন অনেক ভালো করেছে। রানা আবার ফিরলে ভালো করবে অবশ্যই।’
জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন নিয়েও কথা বলেছেন হৃদয়। তাঁর মতে, উইকেট কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটিকে অজুহাত বানানোর সুযোগ নেই। বরং দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সাফল্যের চাবিকাঠি।
হৃদয় বলেন, ‘আশা করি সামনে আবার জিম্বাবুয়েতে আশা হবে এবং ভালো খেলতে পারব৷ অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং সিরিজ ছিল। গত দুই সিরিজে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। দলের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে পারিনি। এখানে কন্ডিশন একটু কঠিন। তবে কঠিন বলাটা উচিত হবে না। যেহেতু পেশাদার ক্রিকেটার, আমাদেরকে সেভাবে মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমরা মানিয়ে নিয়ে খেলতে এবং জিততে পেরেছি।’
বোলারদের চোট প্রসঙ্গেও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তিনি বলেন, ‘আমার জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। গত ম্যাচে ম্যাচের মাঝে রানা ইঞ্জুরড হয়ে যায়। ফলে আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই কন্ডিশনে আগে যারাই এসেছে অনেকেই ইঞ্জুরড হয়েছে। আমার মনে হয় সামনে এই জায়গায় আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে তাহলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের চ্যালেঞ্জ মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে সামনে।’










Discussion about this post