দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ সালের জন্য ঘোষণা করেছে সরকার। এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য এই সম্মাননা পাচ্ছেন সাবেক টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, এ বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিলকে (মরণোত্তর) এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে পুরস্কার পাওয়া জোবেরা রহমান লিনু বর্তমানে ব্যক্তিগত সফরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে রয়েছেন। তিনি সিডনি, মেলবোর্ন ও পার্থ ভ্রমণ শেষে বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশের টেবিল টেনিস অঙ্গনে লিনু একটি কিংবদন্তি নাম। সত্তরের দশক থেকে তিনি এই খেলায় যুক্ত ছিলেন এবং একটানা ১৬ বার জাতীয় নারী চ্যাম্পিয়ন হয়ে অনন্য এক রেকর্ড গড়েন। এই সাফল্যের কারণে বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে গিনেস বুকে তার নাম ওঠে।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, সাইক্লিং ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করেছেন তিনি।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। অতীতে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য নিয়াজ মোর্শেদ, সাঁতারু মোশাররফ, ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন ও জাকারিয়া পিন্টুসহ অনেকেই এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় বিরতির পর কয়েক বছর আগে সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান এই পদক পান। পরে সাবেক দ্রুততম মানবী ফিরোজা খাতুনও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
তবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বেশ কয়েকজন অগ্রজ ব্যক্তিত্ব এখনও এই সম্মাননা পাননি। ফিরোজা খাতুন ও জোবেরা রহমান লিনু পুরস্কার পেলেও সুফিয়া খাতুন, রাণী হামিদ ও কামরুন নাহার ডানারা এখনও স্বাধীনতা পুরস্কারের বাইরে রয়েছেন।
এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর) রয়েছেন।
এছাড়া পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবা ও জনসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর) সম্মাননা পাচ্ছেন।
জনপ্রশাসনে পিএইচডি কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন।










Discussion about this post