শেষ ওভারের টানটান উত্তেজনা, দর্শকদের শ্বাস আটকে যাওয়া মুহূর্ত, সব পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিপিএলের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে সিলেট টাইটানসকে তারা হারিয়েছে ১৪ রানের ব্যবধানে। ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১৯.৪ ওভারে ১৮৪ রানেই থেমে যায় সিলেটের ইনিংস।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম রয়্যালস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন দ্রুত রান তুলতে থাকেন। নাঈম ফিরে গেলেও তিন নম্বরে নেমে মাহমুদুল হাসান জয় ইনিংসে গতি এনে দেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লে পার করে চট্টগ্রাম বড় স্কোরের ভিত গড়ে তোলে।
জয় ফিফটি ছোঁয়ার আগেই ফিরলেও রসিংটন ব্যাট হাতে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৮ বলে ৪৯ রানের ইনিংসে তিনি চট্টগ্রামকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন। মাঝের ওভারে হাসান নওয়াজ ও আসিফ আলী প্রয়োজনীয় রান যোগ করেন। তবে ইনিংসের শেষ অধ্যায়ে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসানের ব্যাট থেকেই আসে সবচেয়ে বড় ঝাঁজ। মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসে ২০ ওভারে ১৯৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় চট্টগ্রাম।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট টাইটানস। মাত্র ৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুব কিছুটা স্থিরতা আনার চেষ্টা করেন। তাওফিক খান ও পরে মঈন আলী অল্প সময়ের জন্য সঙ্গ দিলেও চট্টগ্রামের বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে।
আফিফ এক প্রান্ত ধরে রেখে ইনিংস টানার চেষ্টা করেন। ৩৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেললেও তাকে সেভাবে সহায়তা করতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। ইথান ব্রুকসের ছোট্ট ঝড় কিংবা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের চেষ্টা ম্যাচের মোড় ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শেষদিকে হঠাৎ করেই ম্যাচে নাটক যোগ করেন খালেদ আহমেদ। ৯ বলে ২৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখান তিনি। শেষ তিন বলে সমীকরণ নেমে এলেও তানভীর ইসলামের ঠাণ্ডা মাথার বোলিংয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। খালেদের স্ট্যাম্পিংয়ের সঙ্গে সঙ্গেই জয় নিশ্চিত হয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের।
বল হাতে আমের জামাল ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর, তুলে নেন চারটি উইকেট। তানভীর ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ব্যাট হাতে ঝলমলে ইনিংসের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন মাহমুদুল হাসান জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ছয় ম্যাচে চার জয় নিয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। উত্তেজনায় ভরা এই ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই পরের লড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকবে তারা।










Discussion about this post