বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেতে হলে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। তাই ম্যাচটিকে ঘিরে ছিল বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি লাল-সবুজের মেয়েরা। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ র্যাকটেঙ্গুলার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় বাংলাদেশকে।
আজ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উজবেকিস্তান। এরই ফল আসে খুব দ্রুত। ম্যাচের দশ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় তারা। উজবেক ফরোয়ার্ড খাবিবুল্লাএভা শক্তিশালী শটে বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়ে দেন। ডিফেন্সের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে সহজেই গোলের দেখা পান তিনি। শুরুতেই গোল হজম করায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে গোল খাওয়ার পর বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ফিফা র্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও খেলায় সেই ব্যবধান খুব একটা চোখে পড়েনি প্রথমার্ধে। উজবেকিস্তান যেখানে র্যাংকিংয়ের ৪৯ নম্বরে, সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে ১১২তম স্থানে। কিন্তু মাঠের খেলায় বাংলাদেশের মেয়েরা সমানতালে লড়াই চালিয়ে যায় এবং কয়েকটি আক্রমণও গড়ে তোলে।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সুযোগটি তৈরি হয়। ঋতুপর্ণা চাকমা দ্রুতগতিতে বল নিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে শক্তিশালী শট নেন। সেই শটে প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। তবে উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা দারুণ দক্ষতায় এক হাতে বল ঠেকিয়ে বিপদ সামাল দেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশ আরও কয়েকটি আক্রমণ করে। তহুরা খাতুন বক্সের ভেতরে বল পেয়ে শট নেন। সেই বল প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে কোহাতি কিসকু সুযোগ পান। তখন গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সহজ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। এরপর মারিয়া মান্দা বক্সের সামনে থেকে শট নিলেও তা অল্পের জন্য পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধ শেষ হয় উজবেকিস্তানের ১-০ গোলের লিড নিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নেয় উজবেকিস্তান। ৬২ মিনিটে উমিদা জোইরোভার পাস থেকে গোল করেন দিলদোরা নোজিমোভা। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই চার মিনিট পর আবারও গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৬৬ মিনিটে নোজিমোভা নিজের দ্বিতীয় গোল করে উজবেকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এরপর ম্যাচে আর ফিরে আসতে পারেনি বাংলাদেশ। খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং উজবেকিস্তান আরও কয়েকটি আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে গোলও করে তারা, যখন গোলরক্ষক মিলির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে আসালকন আমিনজোনোভা জালে পাঠান। তবে ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
ম্যাচে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হার থেকে রক্ষা করেন। উজবেকিস্তান একাধিকবার বাংলাদেশের হাই লাইন ডিফেন্স ভেঙে আক্রমণ তৈরি করেছিল। তবে ফিনিশিংয়ের ঘাটতির কারণে তারা আরও গোল করতে পারেনি।
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেছিল দলটি। যদিও শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হারতে হয়েছিল, তবুও সেই ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে জয়ের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।










Discussion about this post